সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সে আমার কেউ না- শফিক নহোর

      ক. সুমনাকে চুমু দেবার পর। ও আমাকে শয়তান,জানোয়ার তোর সঙ্গে কোনদিন কথা বলবো না । এই কথা শেষ না হতেই ওর চোখ জোয়ার ভাটার মত পানি বইতে শুরু করল, একটু ঢং স্বভাবে ওর শরীর ঘেঁসে দাঁড়িয়ে আহ্লাদ করে ওর ওড়না দিয়ে চোখের জল মুছিয়ে দিতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো। তখন বোঝতে পারলাম । সুমনাকে বোঝাতে গেলে বোকা হয়ে যাবো এই মুহূর্তে তার চেয়ে আমি কোন কথা না বাড়িয়ে সদর দরজা দিয়ে বের হতেই মৌ আমাকে দাঁড়াতে বললো। আমি বিদ্যুৎ গতিতে নজর এড়াতে চেষ্টা করলাম। সুমনাকে এই ক'দিনে আমাকে কল করেনি। আমিও চেষ্টা করিনি। এক ধরনের অপরাধ-বোধ আমার ভেতরও কাজ করছে । তাকে এভাবে এতোটা নিবির সম্পর্কে জড়ানো ঠিক হয়নি । আমি রাধানগর শাপলা প্লাস্টিক মোড় পার হয়ে টঙ দোকান থেকে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে মৃদুপায়ে হাঁটতে শুরু-করলাম। মনে হলো কেউ একজন আমার সঙ্গ নিয়েছে। আমি পেছনে তাকাতেই দেখি সুমনা!   আবার যেই তাকিয়েছি, সুমনা উধাও হয়ে গেল। না কি কেউ এই মুহূর্তে ওকে গুম করলো কে জানে ? আমি সিগারেটেরে আগুনটা ফেলে দেবো না কি আর একটা টান দেবো দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। পাশ দিয়ে রিকসা, ইজি-বাইক, সিএনজি চালিত য...

বাণী কবিতা|| শফিক নহোর

 

জল রঙের বেশ্যা।। শফিক নহোর

  উপেক্ষিত নারীর শরীরে আগুন জ্বালিয়ে জলপট্টি দেয় যে মহাজন তাকে দেখেছি, দূরের শহরে,কাক- কোকিলের কি বন্ধুত্ব বেহিসাবি প্রেম, প্রেমিক খুঁজে দেখ কেউ নেই পুরুষ হতে চাইলে প্রেমিক হতে পারলে না অথচ আমার সবকিছুই তোমার নামে উৎসর্গ ।

মিনু সিরিজ কবিতা ।। শফিক নহোর

  #মিনুসিরিজ চারিদিকে বসন্ত বুঝি শেষ! কোথাও কোন আনন্দ নেই, কারো সঙ্গে হাসছে না কেউ সবার ভেতরে বিষাদ নদীর ঢেউ। চারিদিক সর্বজনীন প্রণয়, মোহমায়া! খেয়াঘাটের মাঝির মতোই তাকিয়ে থাকতে হয় কেউ একজন আসছে ! আজকাল দেখছি মানুষ একাকীত্ব, বিরহ, আর ব্যাংকলোনের হিসাব কষছে গাছের পাতার মত সবুজ নয় জীবন। ঘরের জানালা খুলে রাখলেও ভীষণ অন্ধকার রমণীর দীঘলকালো কেশের মতো ঘর ভর্তি আঁধার এই অন্ধকার ঢিঙিয়ে আলো আসবে একদিন শেষ হবে কিস্তির ফয়সালা নিজের চোখে দেখছি যা সবি কি মিছে? কোথায় যেন হারিয়ে গেল- সুখ,অনুভূতি আর নিজের চিরচেনা সেই মানুষ। একটি মিনুসিরিজ কবিতা

একটি মিনুসিরিজ কবিতা- শফিক নহোর

শফিক নহোর   বেদনার চাঁদর গায়ে দিয়ে ঝিনুকের বুকের ভেতর নির্ঘুম রাত জেগে থাকি তোমার নামে প্রণয় তেলওয়াত শুরু করি রোজ, দুঃখ আঁধার কালো হয়ে নেমে আসে চোখে সমুদ্রের জলে ভেসে উঠে মিনুকাব্য একটি নক্ষত্রের বুকের ভেতর নীল পাথরের দাগ দিলরুবার অলিক হাতে মুছে যায় ক্ষত! © একটি মিনুসিরিজ কবিতা

আবার দেখা হলে ।। শফিক নহোর

                                                                 আবার দেখা হলে ।। শফিক নহোর আবার দেখা হলে দাঁড়িয়ে দেখব  তোমার চোখ,চিবুক,লজ্জমাখা মুখ চোখের কাজল, হাতের রেশমি চুড়ি, ওড়নার ঢেউ, চোখের জল মুছার দাগ। আবার দেখা হলে কোন কথা বলব না বলব না সরে বসতে অথবা খুব কাছে  তোমার গায়ের ঘ্রাণ নেব, নখের ভেতর ডুবিয়ে রাখা জলের দাগ খোঁজব। আবার দেখা হলে সামনাসামনি  একটি চাঁদনি রাত চেয়ে নেবো  চেয়ে নেবো জোনাকি আলো  চেয়ে নেবো বৃষ্টিভেজার অনুভূতি  আবার দেখা হলে চেয়ে নেবো বেদনা ভুলার মন্ত্র, চেয়ে নেবো ভুলে থাকার মায়াবিদ্যা চেয়ে নেবো,দূরে থেকে কাছে থাকার যাদু । প্রচ্ছদ: অনুপ রায়

গৃহবন্দি বিড়াল ।। শফিক নহোর

মিনু কলেজ থেকে ফিরে আসার পর তার মা জানিয়ে দিলো, তার আদরের বিড়ালটাকে বাড়িতে রাখা যাবে না। মানুষই খেতেপাচ্ছে না, বিড়াল পুষে কি হবে। তাছাড়া বিড়ালের শরীরে ঘা হয়েছে। পরের দিন মিনু কলেজে যাবার পর তার মা বাড়ির কাজের ছেলে রহিমের সহযোগিতায় বস্তায় ভরে বিড়ালটাকে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছে।   বাড়িতে ঢুকেই মিনু কিছু একটা আন্দাজ করতে পারছে, 'ডাল মে কুছ কালে হে।'   কাঁধের ঝোলা-ব্যাগটা টেবিলের উপরে রাখতেই তার মা কিছু একটা বলতে চাইলেন। কথা ঠোঁটের কিনারে আসতেই হাত ইশারা করে মিনু বলল, আমি সব জানি। তোমাকে কিছুই বলতে হবে না। এরপর মায়ের মুখের দিকে বিষদৃষ্টিতে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে ওয়াশরুমের দিকে রওনা হলো।     সামনের মাসে ফাইনাল পরীক্ষা মিনুর। এর ভেতর দু'জন বিয়ের ঘটক বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। একজন ইতালিতে থাকে ভালো চাকরি করে। অন্য একজন অঢেল টাকার মালিকের ছেলে। সে অবশ্য রাজনীতি করে। মিনুর কানে এখনো পৌঁছায়নি তার বিয়ের জন্য বাবা মা দু'জন ভেতরে ভেতরে ছেলে দেখছে। মিনুর মায়ের কথা হলো, মেয়ে মানুষ যতই শিক্ষিত হোক স্বামীর ভাত রান্না করতেই হবে। বাচ্চাকাচ্চা, নাতিপুতি মানুষ করতে হবে। জীবন সুন্দর অল্প বয়সে বি...