সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মিনু সিরিজ কবিতা ।। শফিক নহোর

  #মিনুসিরিজ চারিদিকে বসন্ত বুঝি শেষ! কোথাও কোন আনন্দ নেই, কারো সঙ্গে হাসছে না কেউ সবার ভেতরে বিষাদ নদীর ঢেউ। চারিদিক সর্বজনীন প্রণয়, মোহমায়া! খেয়াঘাটের মাঝির মতোই তাকিয়ে থাকতে হয় কেউ একজন আসছে ! আজকাল দেখছি মানুষ একাকীত্ব, বিরহ, আর ব্যাংকলোনের হিসাব কষছে গাছের পাতার মত সবুজ নয় জীবন। ঘরের জানালা খুলে রাখলেও ভীষণ অন্ধকার রমণীর দীঘলকালো কেশের মতো ঘর ভর্তি আঁধার এই অন্ধকার ঢিঙিয়ে আলো আসবে একদিন শেষ হবে কিস্তির ফয়সালা নিজের চোখে দেখছি যা সবি কি মিছে? কোথায় যেন হারিয়ে গেল- সুখ,অনুভূতি আর নিজের চিরচেনা সেই মানুষ। একটি মিনুসিরিজ কবিতা

একটি মিনুসিরিজ কবিতা- শফিক নহোর

শফিক নহোর   বেদনার চাঁদর গায়ে দিয়ে ঝিনুকের বুকের ভেতর নির্ঘুম রাত জেগে থাকি তোমার নামে প্রণয় তেলওয়াত শুরু করি রোজ, দুঃখ আঁধার কালো হয়ে নেমে আসে চোখে সমুদ্রের জলে ভেসে উঠে মিনুকাব্য একটি নক্ষত্রের বুকের ভেতর নীল পাথরের দাগ দিলরুবার অলিক হাতে মুছে যায় ক্ষত! © একটি মিনুসিরিজ কবিতা

আবার দেখা হলে ।। শফিক নহোর

                                                                 আবার দেখা হলে ।। শফিক নহোর আবার দেখা হলে দাঁড়িয়ে দেখব  তোমার চোখ,চিবুক,লজ্জমাখা মুখ চোখের কাজল, হাতের রেশমি চুড়ি, ওড়নার ঢেউ, চোখের জল মুছার দাগ। আবার দেখা হলে কোন কথা বলব না বলব না সরে বসতে অথবা খুব কাছে  তোমার গায়ের ঘ্রাণ নেব, নখের ভেতর ডুবিয়ে রাখা জলের দাগ খোঁজব। আবার দেখা হলে সামনাসামনি  একটি চাঁদনি রাত চেয়ে নেবো  চেয়ে নেবো জোনাকি আলো  চেয়ে নেবো বৃষ্টিভেজার অনুভূতি  আবার দেখা হলে চেয়ে নেবো বেদনা ভুলার মন্ত্র, চেয়ে নেবো ভুলে থাকার মায়াবিদ্যা চেয়ে নেবো,দূরে থেকে কাছে থাকার যাদু । প্রচ্ছদ: অনুপ রায়

গৃহবন্দি বিড়াল ।। শফিক নহোর

মিনু কলেজ থেকে ফিরে আসার পর তার মা জানিয়ে দিলো, তার আদরের বিড়ালটাকে বাড়িতে রাখা যাবে না। মানুষই খেতেপাচ্ছে না, বিড়াল পুষে কি হবে। তাছাড়া বিড়ালের শরীরে ঘা হয়েছে। পরের দিন মিনু কলেজে যাবার পর তার মা বাড়ির কাজের ছেলে রহিমের সহযোগিতায় বস্তায় ভরে বিড়ালটাকে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছে।   বাড়িতে ঢুকেই মিনু কিছু একটা আন্দাজ করতে পারছে, 'ডাল মে কুছ কালে হে।'   কাঁধের ঝোলা-ব্যাগটা টেবিলের উপরে রাখতেই তার মা কিছু একটা বলতে চাইলেন। কথা ঠোঁটের কিনারে আসতেই হাত ইশারা করে মিনু বলল, আমি সব জানি। তোমাকে কিছুই বলতে হবে না। এরপর মায়ের মুখের দিকে বিষদৃষ্টিতে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে ওয়াশরুমের দিকে রওনা হলো।     সামনের মাসে ফাইনাল পরীক্ষা মিনুর। এর ভেতর দু'জন বিয়ের ঘটক বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। একজন ইতালিতে থাকে ভালো চাকরি করে। অন্য একজন অঢেল টাকার মালিকের ছেলে। সে অবশ্য রাজনীতি করে। মিনুর কানে এখনো পৌঁছায়নি তার বিয়ের জন্য বাবা মা দু'জন ভেতরে ভেতরে ছেলে দেখছে। মিনুর মায়ের কথা হলো, মেয়ে মানুষ যতই শিক্ষিত হোক স্বামীর ভাত রান্না করতেই হবে। বাচ্চাকাচ্চা, নাতিপুতি মানুষ করতে হবে। জীবন সুন্দর অল্প বয়সে বি...

কীভাবে তোমাকে বলবো, ঠিক বুঝতে পারছি না।

অনন্ত বেদনার অশ্রু জলে তোমার নাম লিখেছি, ক্ষয়ে যাওয়া পাঁজর জুড়ে তোমার স্মৃতির ঢালি সাজিয়ে নীরব অশ্রুজলে ভেসে উঠে সলিল সমাধি। অনুভূতিহীন এই আমি সাগর জলে স্নান করে দেখি ভোরের নতুন অংশুমালী! যা দেখেছি আসলে ভুল। তলিয়ে যাওয়া এই নাবিকের হাত ইচ্ছে করেই তুমি ছেড়ে দিয়েছো। অভিমান নয় অভিযোগ নয় শুধু দূর থেকে তোমাকে দেখে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। তোমার কাজল চোখে অশ্রু গড়িয়ে বেমানান হোক তা কখনো চাইনি । চেয়েছি কুয়াশা জড়ানো প্রভাতে তোমার আলিঙ্গন, কপালের ভাঁজে গুঁজে দিতে চেয়েছি কালো-টিপ যাতে করো দুষ্ট নজর না লাগে। কীভাবে তোমাকে বলবো, ঠিক বুঝতে পারছি না। অস্থির লাগছে মিনু,

মিনুসিরিজ ১২৮

  দুঃখ নদীর পানির মতো  এপাশে ছুঁয়ে দিলে ওপাশে ছোঁয়া যায় জলের এপিঠ ওপিঠ নেই, নেই কোন রঙ  অথচ দেখ, জলের কোন ভেদাভেদ নেই। মিনুর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বোবা হয়ে যাই কত কথা বলার ছিল, অথচ তাকে দেখেই ভুলে যাই সমস্ত গল্প । তার ছবি অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নেয় বিড়বিড় করে বলে উঠে;  এই শোনো  দাঁড়িয়ে যাই, চোখ ভিজে উঠে ঝাপসা দেখি সে ছবি। বিশ্বাস করবে না জানি, তাই বলা হলো না। তোমার আহ্লাদি ছবি কত আবদার করে, ঠোঁট ছুঁয়ে দিতেই তুমি ঘাসফড়িঙ হয়ে যাও  কুয়াশার আড়ালে লুকিয়ে থাকো ফুলের কুঁড়ি হয়ে ।

ইপেপার কবিতা ।। শফিক নহোর