সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

একান্ত ব্যক্তিগত চিঠি || শফিক নহোর

 প্রিয় মেঘবালিকা, বৃষ্টিভেজা এই অলস দুপুরে জানালার পাশে বসে আছি। চারপাশে এক অদ্ভুত সুনসান, কেবল রিমঝিম শব্দে বৃষ্টি যেন পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে দিচ্ছে। আর আমি? আমি এই বৃষ্টিস্নাত নির্জনতায় হারিয়ে যাচ্ছি তোমার স্মৃতির ভেতর—ধীরে ধীরে, গভীরভাবে এ এক গভীর প্রেমের নিঃসঙ্গতায় তুমি জুড়ে থাকো আমায়। আজকের এই চিঠি কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়, এটি আমার হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। এমন এক হৃদয়, যা আজও শুধুমাত্র তোমার ছায়া খুঁজে বেড়ায় প্রতিটি বাতাসে, প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে। জানো, এই বৃষ্টির দিনগুলো কেমন যেন তোমার মতো হয়ে যায়—নরম, গভীর, আর অনির্বচনীয়ভাবে আবেগে পূর্ণ। তোমাকে মনে আছে সেই এক বিকেল? তোমার চোখে সেই অসমাপ্ত গল্পের ভাষা ছিল, যা আমি বুঝতে চেয়েও বোঝার সাহস পাইনি।  তোমার পরনে ছিল নীলরঙা পোষাক, ঠোঁটে ছিল মৃদু হাসি—যা দেখলেই মনে হতো, পুরো দুনিয়া যেন থেমে গেছে কেবল তোমাকে দেখার অপেক্ষায়। তুমি তখন খুব সাধারণভাবে বলছিলে, "আজ আকাশ ভীষণ মনখারাপ করেছে..." আমি চলে যাবো। আমি চুপ রইলাম। ভেতরে ভেতরে বলতে ইচ্ছে করছিল, "না, আকাশ না, মনখারাপ করেছি আমি—কারণ আমি তোমার মনের জানালায় ঢুকতে পারছি...

একাকিত্বের স্বর্গে || শফিক নহোর

  একাকিত্বের স্বর্গে তুমি আজ অশ্রু জলে ভাসো, নিভৃত আঁধারে স্মৃতিরা চুপিসারে ফিরে আসে। নিখাদ ভালোবাসাটুকু, আমি তোমাকে দিয়েছিলাম, অথচ তুমি অবহেলার ছলে প্রত্যাখ্যান করেছিলে সেদিন অবলীলায়। অভিযোগ নেই, অভিমান নেই, নেই কোনো দুঃখের ভার, তবু মনে রেখো, এক হৃদয় ছিলো, তোমার জন্য উদার। তোমার মতো করে, তুমি যেমন চেয়েছিলে, তেমনই এক অনুভবে কেউজন ভালোবেসে ছিলো তোমায়। ভালোবাসা কখনো হারায় না, তুমি ভুললেও সে রয়ে যায় হৃদয়ের গহীনে । অশ্রু ঝরে, তবু মন বলে— ভালোবাসা চিরকালই পবিত্র, অবহেলা তাকে ছুঁতে পারে না কখনো।

স্মৃতির অসুখ -শফিক নহোর

  আমাকে ভুলে যেতে পারলে তুমি মুক্তি পেতে তবে জেনে রেখো, কারণে-অকারণে আমি তোমার মনের কোণায় মেঘের মতো ভেসে উঠব ভুলে যাবার নামে অযুত বাহানায়। দু'জন সামনাসামনি দাড়াঁনোর মতো উদার আন্তরিকতা অথবা বিনয় কোনোটাই নেই এ কি সব তাহলে শুধুই সময়ের নিয়মে ভাঙাগড়া । সম্পর্কের বাহিরে গিয়ে কেউ কাউকে দেখিনি কখনো মানুষ সম্পর্কের বাহিরে কেমন ? তুমি কি কেবলই আমার প্রেম চেয়েছিলে, না অন্য কিছু পুরুষের মোহ কেটে গেলে বুঝি প্রেম থাকে না, কাম থাকে না। ভালোবাসা দিয়ে পুরুষকে আটকিয়ে রাখলে পুরুষ শিশির বিন্দু মতো নুয়ে পড়ে পৌষের শেষ বিকেলের সূর্যের মতো । হেলেঞ্চা ঢোগার মত সবুজ উর্বর মনে কেউ ঢুকে পড়লে পুরুষ মানুষ নিজেকে ভুলে গেলেও প্রেম ভুলে না । পুরুষের ভ্রমর স্বভাব,তাকে প্রেমিক হতে দেখিছি পুরুষ হতে দেখিনি।

শফিক নহোর এর গল্পগ্রন্থ ‘কসুর’ সাহিত্য মূল্যায়ন-আলতাব হোসেন

  ‘কসুর’ গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো আমাদের জীবন, সমাজ এবং মানবিক সম্পর্কের গভীর বাস্তবতা তুলে ধরেছে। এই গল্পগুলোর প্রতিটি চরিত্র এবং ঘটনাপ্রবাহ আমাদেরকে নিজেদের জীবনের অংশ মনে হয়, যা পাঠককে গভীরভাবে স্পর্শ করে এবং চিন্তার খোরাক জোগায়। শফিক নহোরের এই গল্পগ্রন্থে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন, যা আমাদের হৃদয়ে গভীরভাবে স্থান করে নেয়।   পুরানো পাথর গল্পের শুরুতেই একটি অদ্ভুত, রহস্যময় এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘুমাতে দেরি হওয়া এবং ফিরতে গিয়ে অনুভব করা ভয় যেন এক অন্য রকম অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। আমাদের প্রতিদিনের জীবনের এক নিঃসঙ্গ রাতকে যেন রহস্যময় ও অতিপ্রাকৃতভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। মোবাইল ফোনের আলোও যেন অন্ধকারের ভয়ের সামনে তুচ্ছ হয়ে যায়। এই ভয় যেন কেবলমাত্র বাইরের নয়, মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক অজানা আতঙ্ক। পোদ্দার বাড়ির পরিবেশ বর্ণনা অত্যন্ত জীবন্ত এবং স্পষ্ট। বাঁশঝাড়, সরু রাস্তা, এবং ফজরের আজানের পর গাবগাছ থেকে গাব পারা—সবকিছুই যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে লেখকের লেখনিতে। পোদ্দার বাড়ির উঠোন, কদবেলগাছ এবং পুরানো কুঁড়েঘর যেন একে একে জীবনের স্মৃতি...

শফিক নহোরের কবিতা ভাবনা

  নি জের চেহারা নিজে দেখা না গেলেও কবিতায় দেখা যায়। নিজের ভেতরের মানুষটাকে স্পর্শ করা যায়। আসলে কবিতা আসে আসমান থেকে কিছু কবিতা জন্ম নেয় মানব জীবনের ব্যথার নহর থেকে কবিতায়ই যেন দুঃখ সুখের এক অলিক মোহ। কবিতায় যা বলা যায়, প্রতিবাদ করা যায় তুলে ধরা যায় তা অন্য কোন মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় না। কবিতা হলও কবির একান্তই নিজস্ব ভাবনার বহিঃপ্রকাশ।  প্লোটো বলেছিলেন,"ভালোবাসার ছোঁয়ায় প্রত্যেকে কবি হয়ে যায়।" আমি কি কারণে কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম ? যখন খুব ছোট ছিলাম সম্ভবত হাই স্কুলে পড়ি, প্রাকৃতিক সুন্দর্য বিমোহিত করে তুলে। নিজের কবিতা বিষয়ে কিছু বলা কঠিন কবিতা আসলে একবার পাঠ করলে বোঝা সম্ভব নয়। কবিতা পাঠের বিষয় ভাবনার বিষয় তা সত্ত্বেও কখনো কখনো এ কাজ করতে হয়, কেননা তাতে কবির মনের গঠন পাঠ- তার রুচিবোধ, জীবন ও জগতের প্রতি তার যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতি কিছু না কিছু ধরা পড়ে পাঠকের কাছে। কখনো কখনো কবিতার ভেতর আক্ষরিক অর্থ উন্মোচিত হয়। তার সবটুকু ভাব আর কল্পনা-বৈভব নিয়ে তৈরি, এ যেন জীবনের একটি বৃহৎ অংশ জুড়ে থাকা কবিতার ভেতর দারুণ এক রসদ প্রেম-ভাব থাকাটা আমার কাছে গুরুত্ব বলে মনে করি। কবিতা তার নিজ...

প্রিয় মায়াপাখি।। শফিক নহোর

প্রিয় মায়াপাখি কুয়াশায় ঢাকা শহরের তারকাটার অদৃশ্য দেয়াল। কেউ ঢুকতে পারছে না শহরের তারকাটা ভেদ করে। কুয়াশা কোন দেওয়াল মানেনি। সে প্রকৃতির নিয়মে চলে। প্রকৃতিকে রোধ করা যায় না। ভালোবাসা , বিশ্বাস , অনুভূতি হচ্ছে প্রকৃতির অনুচ্ছেদ তাকে কোন নিয়ম দিয়ে আলাদা করতে পারে না। ভৌগোলিকভাবে তুমি দূরে থাকলে বাতাসের সঙ্গে সূর্যের আলোর সঙ্গে তোমার শরীরের ঘ্রাণ ভেসে আসে আমার নাকের ডগায়। তুমি একদিন যোগাযোগ না করলে , দীর্ঘ একাকীত্বের ভেতর ডুবে থাকি তোমার পুরনো স্মৃতিচারণ মনে করে । এই সুখই আমার পরম প্রাপ্তি। তুমি জানতে চাও ! অথচ আমি জানাতে পারি না। এটা আমার অপারগতা ! জানি বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। নিজের কাছেই বিশ্বাস হয় না। নিজের হাত খরচ নেই , আলাদা আড্ডা নেই, বন্ধুদের সঙ্গে পকেট শূন্যতা একধরনের বিষণ্ণ স্বরে কারো কারো চা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয়। প্রতিদিন একজনের চা খাওয়া যায় না। ভেতরে ভেতরে লজ্জাবোধ কাজ করে। কারো সঙ্গে দেখা হওয়া জরুরি অথচ দেখা করতে পারছি না। এই কষ্ট ও অপরাধ ব...