সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রিয় মায়াপাখি।। শফিক নহোর

প্রিয়
মায়াপাখি
কুয়াশায় ঢাকা শহরের তারকাটার অদৃশ্য দেয়াল। কেউ ঢুকতে পারছে না শহরের তারকাটা ভেদ করে। কুয়াশা কোন দেওয়াল মানেনি। সে প্রকৃতির নিয়মে চলে। প্রকৃতিকে রোধ করা যায় না। ভালোবাসা, বিশ্বাস, অনুভূতি হচ্ছে প্রকৃতির অনুচ্ছেদ তাকে কোন নিয়ম দিয়ে আলাদা করতে পারে না। ভৌগোলিকভাবে তুমি দূরে থাকলে বাতাসের সঙ্গে সূর্যের আলোর সঙ্গে তোমার শরীরের ঘ্রাণ ভেসে আসে আমার নাকের ডগায়।
তুমি একদিন যোগাযোগ না করলে,
দীর্ঘ একাকীত্বের ভেতর ডুবে থাকি তোমার পুরনো স্মৃতিচারণ মনে করে । এই সুখই আমার পরম প্রাপ্তি।
তুমি জানতে চাও! অথচ আমি জানাতে পারি না। এটা আমার অপারগতা! জানি বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। নিজের কাছেই বিশ্বাস হয় না। নিজের হাত খরচ নেই, আলাদা আড্ডা নেই, বন্ধুদের সঙ্গে পকেট শূন্যতা একধরনের বিষণ্ণ স্বরে কারো কারো চা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয়। প্রতিদিন একজনের চা খাওয়া যায় না। ভেতরে ভেতরে লজ্জাবোধ কাজ করে। কারো সঙ্গে দেখা হওয়া জরুরি অথচ দেখা করতে পারছি না। এই কষ্ট অপরাধ বোধ নিজেকে সত্যিই অপরাধী বানিয়ে ফেলে।


মায়াপাখিকে সব বলা যায় তাই বলি, উন্মুক্ত আকাশে সে উড়ে বেড়াবে চিঠি লিখলাম তাকে দীর্ঘ একাকীত্বের বেদনা ভরা চিঠি পোস্ট অফিসের ডাকপিয়ন তোমার নাম ভুল করে আমার দেওয়া চিঠিও অন্য ঠিকানায় বিলি করে দেবে।  তুমি অভিমান বুকে চেপে আমাকে অভিযোগ করবে নিষ্ঠুর,পাষাণ,হৃদয়হীন মানুষটি আমাকে সহজে ভুলে গেল।
তুমি মনে মনে বলবে, মানুষটা কত খারাপ, পাষাণ,পাথর। হৃদয়ে মায়া নেই,মমতা নেই।
অথচ আমি তোমাকে চিঠি লিখতে লিখতে একটা চিঠির অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি হয়ে গেছে


চিঠিতে লিখেছিলাম, নিজের যত্ন নিও। নিয়ম করে ওষুধ খেয়ে নিও। সময় করে খাবে তোমার চুল বড্ড এলোমেলো থাকে। চুলে তেল নেবে প্রতিনিয়ত। আজকাল নিজের যত্ন নিচ্ছো না একেবারে এটা কিন্তু ঠিক না । আমি কিন্তু খুব রাগ করবো,  সুন্দর করে চিরুনি দেবে। কপালে একটা কালো-টিপ দেবে। ঠোঁটে হালকা করে লিপিষ্টিক দেবে। হ্যাঁ, তোমাকে তো বলা হয়নি। মাস্ক পরবে বাহিরে বের হলে। তোমাকে কতদিন বলেছি, একটা হাত ঘড়ি পরতে। সবসময় ভুলে যাও নিয়ম করে ওষুধ খেতে। জানি তুমি মনে মনে আমার উপর ভীষণ রাগ করছো কাছে থাকলে নিশ্চয়ই আমার নাক ধরতে!
তোমার উদার মুক্তহৃদয় আমাকে শিশু-বালকের প্রেমে মসগুল থাকি। তোমার হাতের নরম স্পর্শ আমাকে শিহরিত করে।
সেদিন দুপুরে তোমার পায়ের আঙুল ধরে টান দিতেই ফট্টাস শব্দ হলো। মনে মনে ভেবে ছিলাম। এই বুঝি তোমার পায়ের আঙুল ভেঙে গেছে। তুমি মৃদু হেসে বললে, এই পায়ের আঙুল গুলো ফুটিয়ে দেবে? তোমার আহ্লাদি ঢং অপেক্ষিত করতে পারি কি? তুমি যে আমার শত জনমের সাধনা"
তোমার হাতে সেদিন মেহেদি পরতে বলেছিলাম। তুমি শিশু বালিকার মতো মেহেদি পরে আমার সামনে এলে। সেই আনন্দ আকাশে বাতাসে মিশে অলিক মায়ায় বেঁধে রাখো আমায়
তোমার আদুরী আঙুলে শতকোটি বটির দাগ আলু কুচির! অথচ তোমার হাত হলো স্বর্গের, প্রেমের, মমতার। তোমার আঙুলের আলিঙ্গনে প্রতিদিন যে অক্ষর আমাকে পাঠাও তা আমার কাছে পবিত্র, সুখের আনন্দের।
তোমার হাসির শব্দ আমাকে আনন্দিত করে। আমার না পাওয়ার কষ্ট দূর হয় তোমার পবিত্র মুখাবয়ব দেখে।
কোন এক চাপা অভিমানে হয়তো একদিন দূরে চলে যাবে। আমি সেই দিনও তোমার জন্য অনন্ত অপেক্ষা করবো
তোমার ফিরে আসার অপেক্ষা আমার কাছে নতুন করে নিজেকে ফিরে পাওয়া তোমার সঙ্গে একটি জোসনা রাত দেখবো দুজন মিলে। তুমি পাশে বসে আমাকে গেয়ে শুনাবে, “আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়….
আসলে নিজের বলে কোনকিছু আড়াল করে রাখা হলো না সবি মিনুনামায় উৎসর্গকৃত
মঙ্গল হোক, আলোকিত হোক তোমার প্রতিটি প্রভাত

ইতি
শালিক পাখি

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একান্ত ব্যক্তিগত চিঠি || শফিক নহোর

 প্রিয় মেঘবালিকা, বৃষ্টিভেজা এই অলস দুপুরে জানালার পাশে বসে আছি। চারপাশে এক অদ্ভুত সুনসান, কেবল রিমঝিম শব্দে বৃষ্টি যেন পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে দিচ্ছে। আর আমি? আমি এই বৃষ্টিস্নাত নির্জনতায় হারিয়ে যাচ্ছি তোমার স্মৃতির ভেতর—ধীরে ধীরে, গভীরভাবে এ এক গভীর প্রেমের নিঃসঙ্গতায় তুমি জুড়ে থাকো আমায়। আজকের এই চিঠি কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়, এটি আমার হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। এমন এক হৃদয়, যা আজও শুধুমাত্র তোমার ছায়া খুঁজে বেড়ায় প্রতিটি বাতাসে, প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে। জানো, এই বৃষ্টির দিনগুলো কেমন যেন তোমার মতো হয়ে যায়—নরম, গভীর, আর অনির্বচনীয়ভাবে আবেগে পূর্ণ। তোমাকে মনে আছে সেই এক বিকেল? তোমার চোখে সেই অসমাপ্ত গল্পের ভাষা ছিল, যা আমি বুঝতে চেয়েও বোঝার সাহস পাইনি।  তোমার পরনে ছিল নীলরঙা পোষাক, ঠোঁটে ছিল মৃদু হাসি—যা দেখলেই মনে হতো, পুরো দুনিয়া যেন থেমে গেছে কেবল তোমাকে দেখার অপেক্ষায়। তুমি তখন খুব সাধারণভাবে বলছিলে, "আজ আকাশ ভীষণ মনখারাপ করেছে..." আমি চলে যাবো। আমি চুপ রইলাম। ভেতরে ভেতরে বলতে ইচ্ছে করছিল, "না, আকাশ না, মনখারাপ করেছি আমি—কারণ আমি তোমার মনের জানালায় ঢুকতে পারছি...

ছোটগল্প : মৃত বৃক্ষ।। শফিক নহোর

অনেকদিন ধরে বোয়ালমাছ খাবার বায়না ধরেছে মিনু, ও চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা । আজ চলতি মাসের একুশ তারিখ । হাতের অবস্থা বড়ই নাজুক । মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, বেতন হাতে পেলে তুমি যা-যা খেতে চাও? সব এনে দিবো ,চিন্তা করো না। ‘এখন খাবার দাও ?' আমার অফিসে যাবার সময় হলো । ভিলেন মার্কা অভদ্র একজন অফিসার আছে ,সবসময় মানুষের পিছনে একটা পিন বিধিয়ে দেবার পায়তারা চলে অবিরাম ।‘কাকে কি ভাবে পিন দিবে !'আস্তাগফিরুল্লাহ মানুষ কী তাই এত খারাপ হয় । এ অফিসে চাকরি না হলে হয়তো বুঝতাম না ।সকালে বউ রসুনের পাতা দিয়ে টমেটো ভর্তা করেছে ,আহা কি স্বাদ ।গরম ভাতের সঙ্গে হালকা একটু বলরাম কাকার হাতের তৈরিকরা ঘি, ঢেলে নিলাম ।স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে-গেল ।বউ আমার পিছনে দাঁড়িয়ে বলছে, - এই শুনছো, -হ্যাঁ বল, -আমাদের তো একদিনও চিড়িয়াখানা নিয়ে গেলে না । এ সময় চিড়িয়াখানা যেতে নেই । লোকমুখে শুনেছি , ছেলেমেয়ে দেখতে না-কি বানরের মত হয় । ও আল্লাহ্ তুমি এসব কি বলও ।হুম সত্যি বলছি গো বউ ।তা না হলে তোমাকে নিয়ে যাবো না কেন ? তুমি আমার একমাত্র আদরের লক্ষীসোনা বউ । আমার খাওয়া শেষ, বউয়ের শাড়ির আঁচল দিয়ে হাত মুছে খাঁটের উপর বসলাম । বউ আমা...