সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সমাজ চিত্র।। শফিক নহোর

      ধানক্ষেতের ম ত বাড়ছে আমাদের পানির প্রয়োজন প্রেমবৃক্ষ ফলধরে পড়ে যায় যে জমিনে-  আকাশ বিবাগী চেয়ে দেখে অপলক পরাজয়  কেউ একজন পাশে অনুভবে, আসলে সে দাঁড়িয়ে অস্ত্র হাতে।  এই যে ভয় মৃত্যুকে তাড়িয়ে দেয় অথচ  তার চিন্তায় পরে  থাকে ধানগাছের নিচে যে শামুক তার কথা কেউ বলেনি কখনো । কৃষকের হাসি অথবা দুঃখ বধূর অর্ধেক জল চোখে  বৃষ্টিজল,নদী ভাঙন তার চেয়ে বেশি ভেঙে গেছে সংসার! রাজনীতি, নেতা আর চামচা মিলে জমে উঠেছে মধু আসর বেজি ধরা সাপ মন্ত্র পড়ে নেমেছে যে মাঠে  ঠ্যাং ফসকে পরে গেল খালে ।

ছোটগল্প : মৃত বৃক্ষ।। শফিক নহোর

অনেকদিন ধরে বোয়ালমাছ খাবার বায়না ধরেছে মিনু, ও চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা । আজ চলতি মাসের একুশ তারিখ । হাতের অবস্থা বড়ই নাজুক । মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, বেতন হাতে পেলে তুমি যা-যা খেতে চাও? সব এনে দিবো ,চিন্তা করো না। ‘এখন খাবার দাও ?' আমার অফিসে যাবার সময় হলো । ভিলেন মার্কা অভদ্র একজন অফিসার আছে ,সবসময় মানুষের পিছনে একটা পিন বিধিয়ে দেবার পায়তারা চলে অবিরাম ।‘কাকে কি ভাবে পিন দিবে !'আস্তাগফিরুল্লাহ মানুষ কী তাই এত খারাপ হয় । এ অফিসে চাকরি না হলে হয়তো বুঝতাম না ।সকালে বউ রসুনের পাতা দিয়ে টমেটো ভর্তা করেছে ,আহা কি স্বাদ ।গরম ভাতের সঙ্গে হালকা একটু বলরাম কাকার হাতের তৈরিকরা ঘি, ঢেলে নিলাম ।স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে-গেল ।বউ আমার পিছনে দাঁড়িয়ে বলছে, - এই শুনছো, -হ্যাঁ বল, -আমাদের তো একদিনও চিড়িয়াখানা নিয়ে গেলে না । এ সময় চিড়িয়াখানা যেতে নেই । লোকমুখে শুনেছি , ছেলেমেয়ে দেখতে না-কি বানরের মত হয় । ও আল্লাহ্ তুমি এসব কি বলও ।হুম সত্যি বলছি গো বউ ।তা না হলে তোমাকে নিয়ে যাবো না কেন ? তুমি আমার একমাত্র আদরের লক্ষীসোনা বউ । আমার খাওয়া শেষ, বউয়ের শাড়ির আঁচল দিয়ে হাত মুছে খাঁটের উপর বসলাম । বউ আমা...

মুখোশের ফাঁকে ।। শফিক নহোর

    বেলা রানী আমাদের গ্রামের মেয়ে। ও ছিল আমার শৈশবের খেলার সাথি। আমরা কামারহাট সরকারি স্কুলে একসঙ্গেই পড়তাম। বেলা রানী জেলেপাড়ার মেয়ে। এ জন্য তাকে কেউ পছন্দ করত না। উঁচু জাতের ছেলে - মেয়ের সঙ্গে ওর খেলাধুলাকে গ্রামের কেউ কেউ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করত। তখন গ্রামে জগো পাগলি নামের একটা মেয়ে ছিল। আমরা তাকে পেছন থেকে ঢিল ছুড়ে মারতাম। ঢিল দিয়ে খেজুরগাছের আড়ালে লুকিয়ে যেতাম। ঢিল খেয়ে জগো পাগলি পেছনে ফিরে দেখত কেউ নেই। জগো পাগলি মনের সুখে গান গাইত। ধুলো পড়া রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যেত নদীর পারে। সারা দিন এবাড়ি - ওবাড়ি ঘুরত। কখনো কখনো একা একাই উঁচুস্বরে হেসে উঠত , আবার কখনো দুই চোখের ধারা মাটিতে গড়িয়ে পড়ত। মাঝেমধ্যে নিজের চুল নিজেই টেনে টেনে ছিঁড়ত। কাজ একটু কম করলে পাতে খাবারও কম উঠত। ঘানি টানার গরু থাকা সত্ত্বেও তাকে দিয়েই ঘানি টানানো হতো। জগো পাগলির আরেকটা কষ্ট ছিল — পাখিডাকা ভোরে কুয়ো থেকে পানি তুলে রান্নাঘর থেকে শুরু করে গোয়ালঘর পর্যন্ত...