সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মুক্তিযোদ্ধার গল্প- ২০১৯ || বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়রত আলী মাস্টার ||

ইলেকশনের চা - শফিক নহোর

  ইলেকশনের চা শফিক নহোর মোরগ ডাকা ভোরে বাড়ি থেকে বেড় হলাম। চারদিকে কুয়াশা আচ্ছন্ন । দূর্বাঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দু দেখে মনে হচ্ছে ন ' মাসের পোয়াতি । বাবু হলদার ইলেকশনের মাগনা চা খাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে দু ’ মাইল পথ পায়ে হেঁটে নাজিরগঞ্জ বাজারে এসে হাজির হলাম । সকালে তাকে দেখে অবাক হলাম ! একটু মুচকি হেসে তাকালাম। আমাকে দেখে বাবু কাহা কাছকেঁটে যাবার পাঁয়তারা করছিল ।   চায়ের দোকানি এখনো দোকানে এসে পৌঁছাইনি । আগ্রহ নিয়ে বসে আছে । কনকনে শীত নদীর তীরে বাতাস বেশি হওয়ার কারণে ঠাণ্ডা একটু বেশি লাগছে । দোকানি এসে হাজির।বাবু কাহা তার দোকান খোলার অপেক্ষায় ছিল। তোমার নেতা তো আগের তিনদিনের টাকা দেয় নাই । এত ছ্যাঁচড়া নেতা হলে দ্যাশ চলবে । বাটপার মানসের জন্য দ্যাশটা লষ্ট হয়ে গেল । চা খাওয়ার জন্ন্যি ঠিকই তো দু ’ মাইল পায়ে হেঁটে চলে এলে। তোমাকে নেতার মত ভাষণ দিতে হবিলয় হে বেটা । চা খাওয়ার জন্য আসলাম । আমার পছন্দের নেতা কাশেম কাকা । ‘ চা তো আর দোষ করে নাই ইলেকশনের চা বলে কথা । ’ আজ সারা দিনে সাতাশ কাপ চা , বিস্কুট আর দুধের সর খেয়ে সারা দিন কেটে-গেল বাবু কাহার । পরের...

প্রিয় মিনু : শফিক নহোর

  প্রিয় মিনু , আমি হয়তো তোমার আশায় বেঁচে থাকি নির্লজ্জভাবে । আমাকে আঁকড়ে ধরে আছে নরক যন্ত্রণা অবহেলার তাবুতে দাঁড়িয়ে খুঁজছি ঐশ্বরিক প্রেমময় পরমাত্মা যার ভেতর তোমাকে দেখতে পাবো দেবী রূপে । অদমনীয় প্রেম শক্তির দৃষ্টিতে আমার কাছে তুমি শুধু একজন মহান মানুষ । আমি ভুলে যাই বন্ধু পরম বেদনায় চোখের জলে তোমাকে ধরে রাখি স্মৃতিময় করে । হ্যাঁ, বহুবছর আগে; তুমি হয়তো করুণা করতে আমাকে- আমি সেটাকেই প্রেম ভেবে আজো বোকা রয়ে গেলাম । সে চোখের গভীরতায় মায়া ছিল − একটি ঝলমলে সকাল ঢেউ খেলতো কলমিফুলের খসখসে শরীর বেয়ে তোমার হৃদয় দুয়ারে দাঁড়িয়ে বিনয় স্বরে প্রণয় প্রভাতে আরতি জানিয়েছিলাম । নরক অনল অতিবাহিত করেই স্বর্গের কপাটের সামনে দাঁড়িয়ে তোমাকে পাষাণ, পাথর ভেবে দূরে দাঁড়িয়ে রইলাম । দীর্ঘশ্বাসে ভরা জীবনের গল্প তোমাকে ছাড়া কাউকে বলতে পারি না মিনু । তোমার মতো করে কেউ কখনো আমাকে বুঝতে চাইনি কবরের মাটির ঘ্রাণ শুকনো বাতাসের সঙ্গে মিশে আছে একাকী । কষ্টের সদর দরজা খুলে শুধু অপেক্ষা ! © শফিক নহোর

ও মামু কচ্ছিলাম কী

  ও মামু কচ্ছিলাম কী , তোমার মেয়ের তো বয়স কম । এই অল্প বয়সে ফোন কিনে দিলে ? গল্প উপন্যাসের বই কিনে দাও ! তাতে তোমার মঙ্গল হবে । মানুষ না হলে দেখবে সব শেষ । বই কলাম মানুষকে অমানুষ করে না । শিক্ষার চেয়ে সুশিক্ষা মঙ্গলময় । © শফিক নহোর

প্রথম প্রভাত ।। শফিক নহোর

  ডিসেম্বর মাস স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে গেছে এখন ছুটি   । ছেলে মেয়েরা বায়না ধরেছে, এবার ফয়েজ লেক দেখতে যাবে । চট্টগ্রাম খুব সুন্দর শহর , নানুপুরের মন্দির দেখবে। বড় দিনের অনুষ্ঠান শেষ করে বাবার বাড়িতে তিন চারদিন থেকে নববর্ষের বিশেষ দিনে লিটনকে অবাক করবার মতো প্লান প্রোগ্রাম চলছে রীতার মনে । ফয়েজ লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য   যে কোন মানব হৃদয়ে প্রেমের নৈসিক সুন্দর্ষের অবলোকন করতে পারবে । স্বচ্ছ পানির ভেতর দিয়ে আকাশের নীল রোদন মায়ায় বিকেলর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও একধাপ বাড়িয়ে দেয় পাখির কিচির মিচির শব্দ জলে ভেসে বেড়ানো পানকৌড়ি , এদের আলিঙ্গনে তখন মনে হয় আমি সবকিছু থাকতে লিটনের সংসারে সুখ খুঁজে পেলাম না ।   বায়েজিদ বোস্তামি রোডের বাসা থেকে সকালে সূর্য ওঠার প্রথম   প্রহরের কিরণ ঘর আলোকিত করলেও মনের কোণে   ঘোর অন্ধকার ভর করত , ঢাকা শহরে থাকতে থাকতে একটা মায়া জন্ম নিয়েছে ,শহরটার উপর ।আর দিনদিন মায়ার ঘাটতি ঘটছে ঘরের মানুষের সঙ্গে । নববর্ষের উপহার মানুষের কাছ থেকে চেয়ে নিতে নিজেকে খুব ছোটলোক মনে হয় । জীবন সম্পর্কে তাঁর অন্তদৃষ্টি নিরপেক্ষ এবং বাস্তব । চোখ...

অণুগল্প : মিনু -শফিক নহোর

  মিনু শফিক নহোর প্রিয় মিনু , আমাদের ক্ষুদে জামগাছ এখন যুবক হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছে । সেখানে কিছু স্মৃতি আছে আমাদের । আজ দু'দিন বৃষ্টি হচ্ছে ; তুমি থাকলে বাসায় আজ নিশ্চিত খিচুরি রান্না হতো গরুর গোস্ত দিয়ে। তোমার হাতের রান্নার তুলনা কারো সঙ্গে চলে না । বৃষ্টি ভেজা সকালে ঘুম থেকে উঠে ভেবেছিলাম তোমাকে ফোন করবো ফোন হাতে নিতেই হাত অচল হয়ে আসলো এ মোবাইল নম্বর তো এখন আর তোমার নেই ? শুনেছি, তোমার কবরের পাশে একটা জাম্বুরা গাছ রোপণ করেছে; তোমার ভীষণ পছন্দের ছিল ! মরে যাওয়ার পর ইচ্ছার প্রাধান্য দিয়ে লাভ কী তবুও ইচ্ছে গুলো বেঁচে থাকে । আমার ফোনে ইদানিং টাকা থাকেনা সবসময় তুমি আমাকে ফ্লেক্সিলোড করতে সেই অভ্যাসটা আজো রয়ে গেছে । আমি কাউকে ফোন ব্যাক করতে পারি না !