সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইলেকশনের চা - শফিক নহোর

 

ইলেকশনের চা

শফিক নহোর


মোরগ ডাকা ভোরে বাড়ি থেকে বেড় হলাম। চারদিকে কুয়াশা আচ্ছন্নদূর্বাঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দু দেখে মনে হচ্ছে ন'মাসের পোয়াতি । বাবু হলদার ইলেকশনের মাগনা চা খাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে দুমাইল পথ পায়ে হেঁটে নাজিরগঞ্জ বাজারে এসে হাজির হলামসকালে তাকে দেখে অবাক হলাম!একটু মুচকি হেসে তাকালাম।

আমাকে দেখে বাবু কাহা কাছকেঁটে যাবার পাঁয়তারা করছিল

 

চায়ের দোকানি এখনো দোকানে এসে পৌঁছাইনিআগ্রহ নিয়ে বসে আছেকনকনে শীত নদীর তীরে বাতাস বেশি হওয়ার কারণে ঠাণ্ডা একটু বেশি লাগছে ।


দোকানি এসে হাজির।বাবু কাহা তার দোকান খোলার অপেক্ষায় ছিল। তোমার নেতা তো আগের তিনদিনের টাকা দেয় নাই । এত ছ্যাঁচড়া নেতা হলে দ্যাশ চলবে
বাটপার মানসের জন্য দ্যাশটা লষ্ট হয়ে গেল । চা খাওয়ার জন্ন্যি ঠিকই তো দুমাইল পায়ে হেঁটে চলে এলে।

তোমাকে নেতার মত ভাষণ দিতে হবিলয় হে বেটা । চা খাওয়ার জন্য আসলাম । আমার পছন্দের নেতা কাশেম কাকা । চা তো আর দোষ করে নাই ইলেকশনের চা বলে কথা




আজ সারা দিনে সাতাশ কাপ চা,বিস্কুট আর দুধের সর খেয়ে সারা দিন কেটে-গেল বাবু কাহার । পরের দিন সকালে চা দোকানের সামনে দ্যাখা, কি গো কাহা আজ আবার কোথায় যাও হে ! বেটা চা ছাড়া কী বেশিক্ষণ থাহা যায় চা না খাবির পাড়লি তো ক্যামবা জানি লাগে । পেটের ভিতর কেমন ভুটভাট শব্দ করতেছে;লতিফ ডাক্তারকে দেখাতে হবি । আজ পাঁচ দিন তো ছোট ঘরে যেতেই হচ্ছে না । এত কিছু খাচ্ছি যাচ্ছে কোথায় যে গেল? বাপু কিছুই বুঝবার পারলাম না । আমার প্যাট ও দেখি মেশিন হয়ে গেছে ।



বউ সাতসকালে বায়না ধরছে,বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য ইলেকশনের আগে কেউ বাপের বাড়ি যায় । বউকে দেখিয়ে নেতার কাছ থেকে টাকা নিলাম আর কলাম যে,ভোট তো আপনাকে ছাড়া অন্য কেউকে দেবো নাআমার এবার ধান্দা টাকা আর চা খাওয়াচা খেয়ে শহীদ হয়ে যাবো ।মানসের খেত খামারে কাজ করলে কয় টেহা দেয় । ইলেকশনের আগে পরের কাজ করার চেয়ে নিজের কাজ করা ভালো।

বাবু হলদার যে ভাবে ইলেকশনের চা মাগনা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে তাতে তার বাঁচা মরা অবস্থা । মানুষ ফ্রি কিছু খেতে বললে,সে সব সময় হাবাতির মত সবকিছু একাই খাবে ।এখন বুঝতে পারছে পরের সবকিছু মাগনা খাওয়া ভালো না। আমরা তো হুজুগে বাঙালি মাগনা পালি আলকাতরা ও খাই ’’ এত ইলেকশনের চা বলে কথা । এখন বুঝুক কত ধানে কত চাউল




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একান্ত ব্যক্তিগত চিঠি || শফিক নহোর

 প্রিয় মেঘবালিকা, বৃষ্টিভেজা এই অলস দুপুরে জানালার পাশে বসে আছি। চারপাশে এক অদ্ভুত সুনসান, কেবল রিমঝিম শব্দে বৃষ্টি যেন পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে দিচ্ছে। আর আমি? আমি এই বৃষ্টিস্নাত নির্জনতায় হারিয়ে যাচ্ছি তোমার স্মৃতির ভেতর—ধীরে ধীরে, গভীরভাবে এ এক গভীর প্রেমের নিঃসঙ্গতায় তুমি জুড়ে থাকো আমায়। আজকের এই চিঠি কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়, এটি আমার হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। এমন এক হৃদয়, যা আজও শুধুমাত্র তোমার ছায়া খুঁজে বেড়ায় প্রতিটি বাতাসে, প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে। জানো, এই বৃষ্টির দিনগুলো কেমন যেন তোমার মতো হয়ে যায়—নরম, গভীর, আর অনির্বচনীয়ভাবে আবেগে পূর্ণ। তোমাকে মনে আছে সেই এক বিকেল? তোমার চোখে সেই অসমাপ্ত গল্পের ভাষা ছিল, যা আমি বুঝতে চেয়েও বোঝার সাহস পাইনি।  তোমার পরনে ছিল নীলরঙা পোষাক, ঠোঁটে ছিল মৃদু হাসি—যা দেখলেই মনে হতো, পুরো দুনিয়া যেন থেমে গেছে কেবল তোমাকে দেখার অপেক্ষায়। তুমি তখন খুব সাধারণভাবে বলছিলে, "আজ আকাশ ভীষণ মনখারাপ করেছে..." আমি চলে যাবো। আমি চুপ রইলাম। ভেতরে ভেতরে বলতে ইচ্ছে করছিল, "না, আকাশ না, মনখারাপ করেছি আমি—কারণ আমি তোমার মনের জানালায় ঢুকতে পারছি...

ছোটগল্প : মৃত বৃক্ষ।। শফিক নহোর

অনেকদিন ধরে বোয়ালমাছ খাবার বায়না ধরেছে মিনু, ও চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা । আজ চলতি মাসের একুশ তারিখ । হাতের অবস্থা বড়ই নাজুক । মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, বেতন হাতে পেলে তুমি যা-যা খেতে চাও? সব এনে দিবো ,চিন্তা করো না। ‘এখন খাবার দাও ?' আমার অফিসে যাবার সময় হলো । ভিলেন মার্কা অভদ্র একজন অফিসার আছে ,সবসময় মানুষের পিছনে একটা পিন বিধিয়ে দেবার পায়তারা চলে অবিরাম ।‘কাকে কি ভাবে পিন দিবে !'আস্তাগফিরুল্লাহ মানুষ কী তাই এত খারাপ হয় । এ অফিসে চাকরি না হলে হয়তো বুঝতাম না ।সকালে বউ রসুনের পাতা দিয়ে টমেটো ভর্তা করেছে ,আহা কি স্বাদ ।গরম ভাতের সঙ্গে হালকা একটু বলরাম কাকার হাতের তৈরিকরা ঘি, ঢেলে নিলাম ।স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে-গেল ।বউ আমার পিছনে দাঁড়িয়ে বলছে, - এই শুনছো, -হ্যাঁ বল, -আমাদের তো একদিনও চিড়িয়াখানা নিয়ে গেলে না । এ সময় চিড়িয়াখানা যেতে নেই । লোকমুখে শুনেছি , ছেলেমেয়ে দেখতে না-কি বানরের মত হয় । ও আল্লাহ্ তুমি এসব কি বলও ।হুম সত্যি বলছি গো বউ ।তা না হলে তোমাকে নিয়ে যাবো না কেন ? তুমি আমার একমাত্র আদরের লক্ষীসোনা বউ । আমার খাওয়া শেষ, বউয়ের শাড়ির আঁচল দিয়ে হাত মুছে খাঁটের উপর বসলাম । বউ আমা...

প্রিয় মায়াপাখি।। শফিক নহোর

প্রিয় মায়াপাখি কুয়াশায় ঢাকা শহরের তারকাটার অদৃশ্য দেয়াল। কেউ ঢুকতে পারছে না শহরের তারকাটা ভেদ করে। কুয়াশা কোন দেওয়াল মানেনি। সে প্রকৃতির নিয়মে চলে। প্রকৃতিকে রোধ করা যায় না। ভালোবাসা , বিশ্বাস , অনুভূতি হচ্ছে প্রকৃতির অনুচ্ছেদ তাকে কোন নিয়ম দিয়ে আলাদা করতে পারে না। ভৌগোলিকভাবে তুমি দূরে থাকলে বাতাসের সঙ্গে সূর্যের আলোর সঙ্গে তোমার শরীরের ঘ্রাণ ভেসে আসে আমার নাকের ডগায়। তুমি একদিন যোগাযোগ না করলে , দীর্ঘ একাকীত্বের ভেতর ডুবে থাকি তোমার পুরনো স্মৃতিচারণ মনে করে । এই সুখই আমার পরম প্রাপ্তি। তুমি জানতে চাও ! অথচ আমি জানাতে পারি না। এটা আমার অপারগতা ! জানি বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। নিজের কাছেই বিশ্বাস হয় না। নিজের হাত খরচ নেই , আলাদা আড্ডা নেই, বন্ধুদের সঙ্গে পকেট শূন্যতা একধরনের বিষণ্ণ স্বরে কারো কারো চা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয়। প্রতিদিন একজনের চা খাওয়া যায় না। ভেতরে ভেতরে লজ্জাবোধ কাজ করে। কারো সঙ্গে দেখা হওয়া জরুরি অথচ দেখা করতে পারছি না। এই কষ্ট ও অপরাধ ব...