অথচ বুকের ভেতর তোমারে কতবার ট্যাগ দিছি, সখি—
কখনো ভালোবাসা বলে, কখনো হাহাকার, কখনো শুধুই দীর্ঘশ্বাস!
তোমারে খুঁজি আলো-আঁধারে,
অথচ তুমি শূন্যতার মতো নিঃশব্দে মিশে যাও,
আমার দৃষ্টি খোঁজে তোমার ছায়া,
আর তুমি চলেই যাও অচেনা হাওয়ার সঙ্গে ভেসে।
তুমি আমারে পাও, পাওনাদারের মতন—
সংবেদনশীল হিসাব,
কিন্তু খুচরো কয়েন ভেবে নেওনি
যদিও তুমি পাওনাদার, তবূও নিতে চাওনি”
কেমন এই অবহেলা, কেমন এই অবজ্ঞা?
আমি মানুষ, তবু ঝরা পাতার মতো
তোমার মৃদু পায়ে পিষ্ট হই প্রতিদিন—
না বলা শব্দেরা গলায় আটকে থাকে,
তুমি শুনো না, শুধু চলে যাও, চুপিচুপি।
ফুলের বুকে যদি কেউ হাই হিল পরে দাঁড়ায়,
ফুল কি ব্যথা পায় না সখি?
আমার বুকেও ফোটে সেই ফুল,
তোমার অবজ্ঞার প্রতিটি শব্দে তা ঝরে পড়ে।
এই অপেক্ষা, এই তীব্র না-পাওয়া,
আমাকে প্রতিদিন নরক যন্ত্রানায় জ্বালায়
তবু ভালোবাসি, কারণ ভালোবাসা
চায় না বিনিময়, চায় শুধু থেকে যেতে কারও বুকের ভিতর,
যদিও সে জানেই না, কতবার তাকে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে সেখানে।
অথচ বুকের ভেতর তোমারে কতবার ট্যাগ দিছি, সখি—
কখনো ভালোবাসা বলে, কখনো হাহাকার, কখনো শুধুই দীর্ঘশ্বাস!
তোমারে খুঁজি আলো-আঁধারে,
অথচ তুমি শূন্যতার মতো নিঃশব্দে মিশে যাও,
আমার দৃষ্টি খোঁজে তোমার ছায়া,
আর তুমি চলেই যাও অচেনা হাওয়ার সঙ্গে ভেসে।
তুমি আমারে পাও, পাওনাদারের মতন—
সংবেদনশীল হিসাব,
কিন্তু খুচরো কয়েন ভেবে নেওনি
যদিও তুমি পাওনাদার, তবূও নিতে চাওনি”
কেমন এই অবহেলা, কেমন এই অবজ্ঞা?
আমি মানুষ, তবু ঝরা পাতার মতো
তোমার মৃদু পায়ে পিষ্ট হই প্রতিদিন—
না বলা শব্দেরা গলায় আটকে থাকে,
তুমি শুনো না, শুধু চলে যাও, চুপিচুপি।
ফুলের বুকে যদি কেউ হাই হিল পরে দাঁড়ায়,
ফুল কি ব্যথা পায় না সখি?
আমার বুকেও ফোটে সেই ফুল,
তোমার অবজ্ঞার প্রতিটি শব্দে তা ঝরে পড়ে।
এই অপেক্ষা, এই তীব্র না-পাওয়া,
আমাকে প্রতিদিন নরক যন্ত্রানায় জ্বালায়
তবু ভালোবাসি, কারণ ভালোবাসা
চায় না বিনিময়, চায় শুধু থেকে যেতে কারও বুকের ভিতর,
যদিও সে জানেই না, কতবার তাকে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে সেখানে।
কবিতার নাম: ট্যাগ
কবি: শফিক নহোর
সাহিত্য বিশ্লেষক : দিলরুবা মনি
ট্যাগ — একবিংশ শতাব্দীর প্রেম ও যন্ত্রণার এক বিমূর্ত দলিল।
শফিক নহোর তাঁর কবিতায় আধুনিক শব্দের আড়ালে প্রেমের চিরন্তন বেদনা, অবহেলা, স্মৃতি এবং একতরফা ভালোবাসার গূঢ় রূপকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ।
কবিতার শুরুতেই “ট্যাগ” শব্দটি যেন পাঠককে টেনে নিয়ে যায় বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতায়।
“ট্যাগ দিলেই তারে খুব সহজে খুঁজে পাওয়া যায়,
অথচ বুকের ভেতর তোমারে কতবার ট্যাগ দিছি, সখি…”
এখানে কবি বলছেন— সোশ্যাল মিডিয়ার ট্যাগ করা মানুষের চেয়েও বুকের ভিতরের আবেগে কাউকে ট্যাগ করাটা অনেক গভীর ও বেদনাদায়ক। এই পংক্তিগুলোতে এক নিঃশব্দ আকুতি, নিঃস্বার্থ প্রেম, এবং হারিয়ে ফেলার হাহাকার একসঙ্গে ধরা দেয়।
শফিক নহোর তাঁর রচনায় শূন্যতা, অদৃশ্যতা এবং হৃদয়ের অব্যক্ত দীর্ঘশ্বাসকে চিত্রময় করে তুলেছেন—
“তোমারে খুঁজি আলো-আঁধারে,
অথচ তুমি শূন্যতার মতো নিঃশব্দে মিশে যাও…”
এই ছায়াময় উপস্থিতি এবং নিঃশব্দ চলাচল কবিতার আবেগকে আরো নিবিড় করে তোলে। প্রেমিকাকে পাওয়াকে কবি তুলনা করেছেন পাওনাদারের মতো, অথচ সেখানে একটি প্রচ্ছন্ন অপমানও আছে—
“তুমি আমারে পাও, পাওনাদারের মতন—
সংবেদনশীল হিসাব,
কিন্তু খুচরো কয়েন ভেবে নেওনি...”
এই চিত্রকল্প বলিষ্ঠ ও ভিন্নধর্মী। তাৎক্ষণিকভাবে মনে পড়ে যায় জীবনানন্দ দাশের পঙ্ক্তিগুলোর শূন্যতা, আবার ধরা পড়ে আমাদের সময়ের একাকীত্বের ব্যথা।
কবিতার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী রূপক হলো—
“ফুলের বুকে যদি কেউ হাই হিল পরে দাঁড়ায়,
ফুল কি ব্যথা পায় না সখি?”
এই অংশটি পাঠকের হৃদয়ে অজান্তেই একটা চাপা কান্না জাগিয়ে তোলে। ফুলের কোমলতার সাথে বুকের বেদনার সংযোগ, আর সেই ব্যথাকে অগ্রাহ্য করার প্রতীক— এক দুর্দান্ত কবিসত্তার পরিচয় বহন করে।
শেষে এসে কবি যেন একটি চিরন্তন সত্য উচ্চারণ করে
“ভালোবাসা চায় না বিনিময়, চায় শুধু থেকে যেতে কারও বুকের ভিতর,
যদিও সে জানেই না, কতবার তাকে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে সেখানে।”
এই পঙ্ক্তিগুলো পাঠকের মনে ভালোবাসার নিরব উপস্থাপন ও আত্মত্যাগের এক গূঢ় ব্যাখ্যা হয়ে ওঠে।
শফিক নহোরের “ট্যাগ” কবিতা আধুনিক প্রেমের অনিশ্চয়তা, অভিমান, অবহেলা ও আত্মিক ভালোবাসার নিঃশব্দ যন্ত্রণার নিখুঁত চিত্র। ভাষা পরিশীলিত, রূপক সাহসী, এবং উপমা আবেগঘন।
এই কবিতা শুধু প্রেম নয়— আমাদের সময়ের ভেতরের নীরব কষ্ট ও অপ্রাপ্তির স্বরূপকে ব্যাখ্যা করে।
এমন কবিতা শুধু পড়া নয়, অনুভবের দাবি রাখে।
সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে “ট্যাগ” একটি পাঠ্য নয়, বরং এক নিঃশব্দ আত্মদর্শন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন