সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ট্যাগ || শফিক নহোর



ট্যাগ দিলেই তারে খুব সহজে খুঁজে পাওয়া যায়,
অথচ বুকের ভেতর তোমারে কতবার ট্যাগ দিছি, সখি—
কখনো ভালোবাসা বলে, কখনো হাহাকার, কখনো শুধুই দীর্ঘশ্বাস!
তোমারে খুঁজি আলো-আঁধারে,
অথচ তুমি শূন্যতার মতো নিঃশব্দে মিশে যাও,
আমার দৃষ্টি খোঁজে তোমার ছায়া,
আর তুমি চলেই যাও অচেনা হাওয়ার সঙ্গে ভেসে।
তুমি আমারে পাও, পাওনাদারের মতন—
সংবেদনশীল হিসাব,
কিন্তু খুচরো কয়েন ভেবে নেওনি
যদিও তুমি পাওনাদার, তবূও নিতে চাওনি”
কেমন এই অবহেলা, কেমন এই অবজ্ঞা?
আমি মানুষ, তবু ঝরা পাতার মতো
তোমার মৃদু পায়ে পিষ্ট হই প্রতিদিন—
না বলা শব্দেরা গলায় আটকে থাকে,
তুমি শুনো না, শুধু চলে যাও, চুপিচুপি।
ফুলের বুকে যদি কেউ হাই হিল পরে দাঁড়ায়,
ফুল কি ব্যথা পায় না সখি?
আমার বুকেও ফোটে সেই ফুল,
তোমার অবজ্ঞার প্রতিটি শব্দে তা ঝরে পড়ে।
এই অপেক্ষা, এই তীব্র না-পাওয়া,
আমাকে প্রতিদিন নরক যন্ত্রানায় জ্বালায়
তবু ভালোবাসি, কারণ ভালোবাসা
চায় না বিনিময়, চায় শুধু থেকে যেতে কারও বুকের ভিতর,
যদিও সে জানেই না, কতবার তাকে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে সেখানে।
ট্যাগ দিলেই তারে খুব সহজে খুঁজে পাওয়া যায়,
অথচ বুকের ভেতর তোমারে কতবার ট্যাগ দিছি, সখি—
কখনো ভালোবাসা বলে, কখনো হাহাকার, কখনো শুধুই দীর্ঘশ্বাস!
তোমারে খুঁজি আলো-আঁধারে,
অথচ তুমি শূন্যতার মতো নিঃশব্দে মিশে যাও,
আমার দৃষ্টি খোঁজে তোমার ছায়া,
আর তুমি চলেই যাও অচেনা হাওয়ার সঙ্গে ভেসে।
তুমি আমারে পাও, পাওনাদারের মতন—
সংবেদনশীল হিসাব,
কিন্তু খুচরো কয়েন ভেবে নেওনি
যদিও তুমি পাওনাদার, তবূও নিতে চাওনি”
কেমন এই অবহেলা, কেমন এই অবজ্ঞা?
আমি মানুষ, তবু ঝরা পাতার মতো
তোমার মৃদু পায়ে পিষ্ট হই প্রতিদিন—
না বলা শব্দেরা গলায় আটকে থাকে,
তুমি শুনো না, শুধু চলে যাও, চুপিচুপি।
ফুলের বুকে যদি কেউ হাই হিল পরে দাঁড়ায়,
ফুল কি ব্যথা পায় না সখি?
আমার বুকেও ফোটে সেই ফুল,
তোমার অবজ্ঞার প্রতিটি শব্দে তা ঝরে পড়ে।
এই অপেক্ষা, এই তীব্র না-পাওয়া,
আমাকে প্রতিদিন নরক যন্ত্রানায় জ্বালায়
তবু ভালোবাসি, কারণ ভালোবাসা
চায় না বিনিময়, চায় শুধু থেকে যেতে কারও বুকের ভিতর,
যদিও সে জানেই না, কতবার তাকে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে সেখানে।



কবিতার নাম: ট্যাগ কবি: শফিক নহোর সাহিত্য বিশ্লেষক : দিলরুবা মনি ট্যাগ — একবিংশ শতাব্দীর প্রেম ও যন্ত্রণার এক বিমূর্ত দলিল। শফিক নহোর তাঁর কবিতায় আধুনিক শব্দের আড়ালে প্রেমের চিরন্তন বেদনা, অবহেলা, স্মৃতি এবং একতরফা ভালোবাসার গূঢ় রূপকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ। কবিতার শুরুতেই “ট্যাগ” শব্দটি যেন পাঠককে টেনে নিয়ে যায় বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতায়। “ট্যাগ দিলেই তারে খুব সহজে খুঁজে পাওয়া যায়, অথচ বুকের ভেতর তোমারে কতবার ট্যাগ দিছি, সখি…” এখানে কবি বলছেন— সোশ্যাল মিডিয়ার ট্যাগ করা মানুষের চেয়েও বুকের ভিতরের আবেগে কাউকে ট্যাগ করাটা অনেক গভীর ও বেদনাদায়ক। এই পংক্তিগুলোতে এক নিঃশব্দ আকুতি, নিঃস্বার্থ প্রেম, এবং হারিয়ে ফেলার হাহাকার একসঙ্গে ধরা দেয়। শফিক নহোর তাঁর রচনায় শূন্যতা, অদৃশ্যতা এবং হৃদয়ের অব্যক্ত দীর্ঘশ্বাসকে চিত্রময় করে তুলেছেন— “তোমারে খুঁজি আলো-আঁধারে, অথচ তুমি শূন্যতার মতো নিঃশব্দে মিশে যাও…” এই ছায়াময় উপস্থিতি এবং নিঃশব্দ চলাচল কবিতার আবেগকে আরো নিবিড় করে তোলে। প্রেমিকাকে পাওয়াকে কবি তুলনা করেছেন পাওনাদারের মতো, অথচ সেখানে একটি প্রচ্ছন্ন অপমানও আছে— “তুমি আমারে পাও, পাওনাদারের মতন— সংবেদনশীল হিসাব, কিন্তু খুচরো কয়েন ভেবে নেওনি...” এই চিত্রকল্প বলিষ্ঠ ও ভিন্নধর্মী। তাৎক্ষণিকভাবে মনে পড়ে যায় জীবনানন্দ দাশের পঙ্‌ক্তিগুলোর শূন্যতা, আবার ধরা পড়ে আমাদের সময়ের একাকীত্বের ব্যথা। কবিতার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী রূপক হলো— “ফুলের বুকে যদি কেউ হাই হিল পরে দাঁড়ায়, ফুল কি ব্যথা পায় না সখি?” এই অংশটি পাঠকের হৃদয়ে অজান্তেই একটা চাপা কান্না জাগিয়ে তোলে। ফুলের কোমলতার সাথে বুকের বেদনার সংযোগ, আর সেই ব্যথাকে অগ্রাহ্য করার প্রতীক— এক দুর্দান্ত কবিসত্তার পরিচয় বহন করে। শেষে এসে কবি যেন একটি চিরন্তন সত্য উচ্চারণ করে “ভালোবাসা চায় না বিনিময়, চায় শুধু থেকে যেতে কারও বুকের ভিতর, যদিও সে জানেই না, কতবার তাকে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে সেখানে।” এই পঙ্‌ক্তিগুলো পাঠকের মনে ভালোবাসার নিরব উপস্থাপন ও আত্মত্যাগের এক গূঢ় ব্যাখ্যা হয়ে ওঠে। শফিক নহোরের “ট্যাগ” কবিতা আধুনিক প্রেমের অনিশ্চয়তা, অভিমান, অবহেলা ও আত্মিক ভালোবাসার নিঃশব্দ যন্ত্রণার নিখুঁত চিত্র। ভাষা পরিশীলিত, রূপক সাহসী, এবং উপমা আবেগঘন। এই কবিতা শুধু প্রেম নয়— আমাদের সময়ের ভেতরের নীরব কষ্ট ও অপ্রাপ্তির স্বরূপকে ব্যাখ্যা করে। এমন কবিতা শুধু পড়া নয়, অনুভবের দাবি রাখে। সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে “ট্যাগ” একটি পাঠ্য নয়, বরং এক নিঃশব্দ আত্মদর্শন।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একান্ত ব্যক্তিগত চিঠি || শফিক নহোর

 প্রিয় মেঘবালিকা, বৃষ্টিভেজা এই অলস দুপুরে জানালার পাশে বসে আছি। চারপাশে এক অদ্ভুত সুনসান, কেবল রিমঝিম শব্দে বৃষ্টি যেন পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে দিচ্ছে। আর আমি? আমি এই বৃষ্টিস্নাত নির্জনতায় হারিয়ে যাচ্ছি তোমার স্মৃতির ভেতর—ধীরে ধীরে, গভীরভাবে এ এক গভীর প্রেমের নিঃসঙ্গতায় তুমি জুড়ে থাকো আমায়। আজকের এই চিঠি কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়, এটি আমার হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। এমন এক হৃদয়, যা আজও শুধুমাত্র তোমার ছায়া খুঁজে বেড়ায় প্রতিটি বাতাসে, প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে। জানো, এই বৃষ্টির দিনগুলো কেমন যেন তোমার মতো হয়ে যায়—নরম, গভীর, আর অনির্বচনীয়ভাবে আবেগে পূর্ণ। তোমাকে মনে আছে সেই এক বিকেল? তোমার চোখে সেই অসমাপ্ত গল্পের ভাষা ছিল, যা আমি বুঝতে চেয়েও বোঝার সাহস পাইনি।  তোমার পরনে ছিল নীলরঙা পোষাক, ঠোঁটে ছিল মৃদু হাসি—যা দেখলেই মনে হতো, পুরো দুনিয়া যেন থেমে গেছে কেবল তোমাকে দেখার অপেক্ষায়। তুমি তখন খুব সাধারণভাবে বলছিলে, "আজ আকাশ ভীষণ মনখারাপ করেছে..." আমি চলে যাবো। আমি চুপ রইলাম। ভেতরে ভেতরে বলতে ইচ্ছে করছিল, "না, আকাশ না, মনখারাপ করেছি আমি—কারণ আমি তোমার মনের জানালায় ঢুকতে পারছি...

ছোটগল্প : মৃত বৃক্ষ।। শফিক নহোর

অনেকদিন ধরে বোয়ালমাছ খাবার বায়না ধরেছে মিনু, ও চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা । আজ চলতি মাসের একুশ তারিখ । হাতের অবস্থা বড়ই নাজুক । মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, বেতন হাতে পেলে তুমি যা-যা খেতে চাও? সব এনে দিবো ,চিন্তা করো না। ‘এখন খাবার দাও ?' আমার অফিসে যাবার সময় হলো । ভিলেন মার্কা অভদ্র একজন অফিসার আছে ,সবসময় মানুষের পিছনে একটা পিন বিধিয়ে দেবার পায়তারা চলে অবিরাম ।‘কাকে কি ভাবে পিন দিবে !'আস্তাগফিরুল্লাহ মানুষ কী তাই এত খারাপ হয় । এ অফিসে চাকরি না হলে হয়তো বুঝতাম না ।সকালে বউ রসুনের পাতা দিয়ে টমেটো ভর্তা করেছে ,আহা কি স্বাদ ।গরম ভাতের সঙ্গে হালকা একটু বলরাম কাকার হাতের তৈরিকরা ঘি, ঢেলে নিলাম ।স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে-গেল ।বউ আমার পিছনে দাঁড়িয়ে বলছে, - এই শুনছো, -হ্যাঁ বল, -আমাদের তো একদিনও চিড়িয়াখানা নিয়ে গেলে না । এ সময় চিড়িয়াখানা যেতে নেই । লোকমুখে শুনেছি , ছেলেমেয়ে দেখতে না-কি বানরের মত হয় । ও আল্লাহ্ তুমি এসব কি বলও ।হুম সত্যি বলছি গো বউ ।তা না হলে তোমাকে নিয়ে যাবো না কেন ? তুমি আমার একমাত্র আদরের লক্ষীসোনা বউ । আমার খাওয়া শেষ, বউয়ের শাড়ির আঁচল দিয়ে হাত মুছে খাঁটের উপর বসলাম । বউ আমা...

প্রিয় মায়াপাখি।। শফিক নহোর

প্রিয় মায়াপাখি কুয়াশায় ঢাকা শহরের তারকাটার অদৃশ্য দেয়াল। কেউ ঢুকতে পারছে না শহরের তারকাটা ভেদ করে। কুয়াশা কোন দেওয়াল মানেনি। সে প্রকৃতির নিয়মে চলে। প্রকৃতিকে রোধ করা যায় না। ভালোবাসা , বিশ্বাস , অনুভূতি হচ্ছে প্রকৃতির অনুচ্ছেদ তাকে কোন নিয়ম দিয়ে আলাদা করতে পারে না। ভৌগোলিকভাবে তুমি দূরে থাকলে বাতাসের সঙ্গে সূর্যের আলোর সঙ্গে তোমার শরীরের ঘ্রাণ ভেসে আসে আমার নাকের ডগায়। তুমি একদিন যোগাযোগ না করলে , দীর্ঘ একাকীত্বের ভেতর ডুবে থাকি তোমার পুরনো স্মৃতিচারণ মনে করে । এই সুখই আমার পরম প্রাপ্তি। তুমি জানতে চাও ! অথচ আমি জানাতে পারি না। এটা আমার অপারগতা ! জানি বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। নিজের কাছেই বিশ্বাস হয় না। নিজের হাত খরচ নেই , আলাদা আড্ডা নেই, বন্ধুদের সঙ্গে পকেট শূন্যতা একধরনের বিষণ্ণ স্বরে কারো কারো চা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয়। প্রতিদিন একজনের চা খাওয়া যায় না। ভেতরে ভেতরে লজ্জাবোধ কাজ করে। কারো সঙ্গে দেখা হওয়া জরুরি অথচ দেখা করতে পারছি না। এই কষ্ট ও অপরাধ ব...