সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অগ্নিকুসুম || শফিক নহোর



অগ্নিকুসুম
শফিক নহোর

আলতাফ মাস্টারের পাঁচ মেয়ে পাঁচটা নাঙ ধরছে আলতাফ মাস্টার বাজারে না গেলেও ঘরের ভেতরে বাজার থেকে , তাজামাছ , শুঁটকি মাছ , পুঁইশাকের ডগা , চিংড়িমাছ , কাঁঠালের বিচি ভাজি সব আসে নাঙ থাকলে মায়া মানুষের কোন কিছুর অভাব হয়না আলতাফ মাস্টার মেয়ে দিয়ে আড়ত বসাইছে বড় মেয়ে সারাদিন দেখি বাজারে দোকান নিয়ে অন্ধকার ভূতের ঘর তৈরি করছে , গ্রামের মাগি মানুষের গা লাগছে শহরের ভূতের হাওয়া, কালো ভূত দরজা দিয়ে ঢুকলে শাদা ফর্সা মানুষ বের হয়
মেয়ে মানুষ এখন মরদ বেটাগোরে মত বাজারে গিয়ে বিউটি পার্লারের নাম দিয়া বাল ফেলায়
খানকী মাগিরে কাজকাম যা তাই করে ,
-নিরাল ভাই, মনি-আপা তোমার সঙ্গে প্রেমের অফার না করছে , দেখে এত ক্ষেপছো
-ধুর শালার পুত , তোর মনিআপার চেয়ে ভাল মেয়ে একখান নোট দেখালে কাঠের পুতুলের মত হা করে আমার পিছনে ছুটে আসবে সমাজে কি সত্য কথা বললে কেউ বিশ্বাস করে ,করেনা রে— টিটু , আমার কথা কেউ বিশ্বাস করে না
হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের মতো ফাঁকিবাজ , ডেট ওভার ক্রিম লাগিয়ে , সাত সতের করে
 বেটি মানুষের মত মুখে মধু লাগাইয়া কত রঙ্গের কথা বলবে শরীরে যে পোশাক,  বেটা মানুষ না ,পুরুষ মানুষ বোঝার উপায় নাই মাগি মানুষের ষোলকলার এক কলা, বাজারের সভাপতিকে দেখাচ্ছে আমাকে দোকান না দিয়া ফটিক ব্যাপারী পান চিবাইতে -চিবাইতে দাঁত কেলিয়ে সামনে দিয়ে গেলে মনে কয় ছিঁড়া জুতা দিয়া মুখে দুইটা বারি দেই খাচ্ছর হলে কী মানুষ এত খাচ্ছর হয় জোয়ান মায়া দেখছে , লোভে কত কি করবে নি ব্যাপারী
সন্ধ্যা লাগলে সুন্দরীর দোকানের আশেপাশে ঘুরঘুর করবে দরজার সামনে লেখা, “ বেটা ছাওয়াল রুমে প্রবেশ নিষেধ , গোপনে রুমে বেটা ছাওয়াল ঢুকলে মনে হয় টাকার দেবতা ঢুকছে ’’

শরীরের উপর মশা নাই পড়তে রক্ত না খেয়েই মুচি বাড়ির খালে পা পিছলে পড়া যাবার মত অবস্থা মিনশীর শরীরের যে গঠন দেখলেই মানুষ ডরে থাকবো , কেমন মাটি সাপের মত নুয়ে পড়ল ’’ হারামির বাচ্চা গো এত শক্তি এখন দেখছি মশার চেয়ে কম
লোকজন আসবে আপনি দ্রুত এখান থেকে চলে যান , রুমের ভেতরে ফিসফিস শব্দ আমার কানে আসতে লাগল কিন্তু কেন জানি মনে হল বাতাসে উড়ে আসছে কথা ভূতের আলাপন মনে হলো তখন তো মিনুর ঘরে ফটিক ব্যাপারী ছিল না অবিশ্বাস হয়েছিল নিজের প্রতি , তাই টিটুকে পাঠানো ; ‘‘যে লাউ সেই কদু

- ফটিক ভাই , তুমি কি ভেতরে আছো
দরজা খুলে সামনে অন্ধকার লোকটাকে ঝাপসা দেখা যাচ্ছে
-আপনি জানেননা ফটিক ব্যাপারী এখানে থাকে না এইটা লেডিস পার্লার মেয়ে মানুষের চেহারা না দেখলে , ভেতরে পুড়ে লুচ্চা কোথাকার ?'
- মনি আপা আমি টিটু
- আমি বাজারে থাকি, সব টিটুরে চিনেছি;
কোন কথা বলবি না সোজা চলে যা , না হলে তোর বাপের কাছে বিচার দিব কচ্ছি '

রিক্তা আলতাফ মাস্টারের দ্বিতীয় মেয়ে , সারাদিন মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি , মাসে দুই তিনবার সালিশ-দরবার হয় তাকে নিয়ে বিকাশে কোন ছাওয়ালের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে , আর একজন আসছে বরিশাল থেকে   তার না-কি ভুলে  রিক্তার বিকাশে টাকা চলে আসছে , রং নাম্বার কী মেয়ে মানুষের হয় শুধু ! কোথাও থেকে কল আসলেও মেয়ে মানুষের মোবাইলে বেশি আসে মেয়ে মানুষের মতো এরা একপ্রকার বোতিল /রূঢ় ফাঁকা গুটি মারবে , দুই একটা পাখি পড়লে পড়বে না পড়লে সাধু মুসাফির গ্রামের কেউ তাঁরে কোন ইন্তেজাম লাগাইতে পারব না আজ 'দিন দেখছি কুত্তার লাহান ঘুরঘুর করতেছে ,

চেয়ারম্যানের ছাওয়াল একটা লুচ্চা , তার সঙ্গে যোগ হয়েছে , সরকার বাড়ির ছাওয়াল পল সারাদিন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরবে , মেয়ে মানুষ দেখলে তো হুস-জ্ঞান কিছু থাকে না , খানকির পুতের ধরতে পারলে ,
গাঁজা ওর জনমের মতো আজ খাওইয়া দিবো আজ আবার শুনলাম ,  সুবাস পোদ্দারের বাড়ি থেকে নারকেল চুরি করে খাইছে রাতে , আমার কাছে সুবাসের বউ কান্নাকাটি করে বিচার দিলো হিন্দু মানুষ কারো কাছে জোর গলায় কিছু বলতে গেলে পরের দিন রাতে ঘরের চালে ঢিল পড়বে

- বৌদি আমি তোমার মত সাধারণ মানুষ , দেখি ছাওয়াল পলরে পাইলে বুঝিয়ে বলবো
 কোনমতে তাকে বিদায় করে জাহান কলুর দোকানের সামনে বসে চা মুখে নিতেই ,টিটুর সঙ্গে দেখা

-বেটা , শোনো আমি তোমারে ভাল জানি , তাই বলছি ; চেয়ারম্যানের পরিবার তো ভালো না ওদের থেকে সব সময় সাবধানে থাকবে খালেক ভোট না পেয়ে ব্যাপারী হয়ে গেল বড় নেতার সাথে সম্পর্ক থাকলে কিনা হয় বেটা এসব তুমি বুঝবে লয় খালেক এখন বাজারের সভাপতি দোকান পাট ভাড়া দিচ্ছে , দোকান মালিকের কাছ থেকে টাকা খাচ্ছে , বুড়া হয়ে গেছে বিয়ে করেনি ঘর ঘর উঁকি মারার অভ্যাস কি ভাল জিনিস ?'

 এসব মানুষ ভাল চোখে দেখে না বেলা অনেক হয়েছে , বাড়িতে গিয়ে পেটে দানাপানি কিছু দিতে হবে , ‘ টিটু তোমাকে ভালবেসে বললাম এসব কথা আবার কেউরে বলো না টিটুর ঠোঁটের কিনারে জবাব আসতেই বেহায়ার মত হাসি দিয়ে চলে গেল শমসের সরকার
নিরাল ভাইকে একটা খবর দিতেই , চেয়ারম্যানের পুকুর পাড় দিয়ে যাচ্ছিলাম ; আজ চেয়ারম্যানের বাড়ি মিটিং লোকজনের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে খয়রাতি খাবার দিচ্ছে একটু এগিয়ে যেতেই , রিক্তা আপার সঙ্গে দেখা ,
যখন কেস শুরু হয় , দোষ মেয়ে মানুষের থাকলেও মিনশির উপর গিয়ে দোষ পরবে , আর এটাই স্বাভাবিক নিয়ম আমাদের সমাজে
ছাওয়াল মানুষ যেনে খুশি সেখানে যাবি , তাই কি যায় ? সবারি তো মা বোন আছে , তাই নারে টিটু সারাদিন দেখি ,  মেয়ে দেখলে আষাঢ় মাসের কুত্তার লাহান পিছন পিছন ঘুরিস আমার সামনে আসছিস ,ভদ্রতা দেখাতে হারামি তুই আমার দেবর হলে তোরে ন্যাংটা করে দেখতাম তুই সত্যিকার মনশি না-কি মাগি মানুষ
কোন কথা কচ্ছিস না ক্যারে মিনশি , শরম পাইছিস ছাওয়াল মানুষের লজ্জা , তলেতলে ঠিকই চলে সব উপরে সাধু সাজাচ্ছিস আমাকে দেখে  শয়তান , কোথাকার সন্ধ্যার সময় কচ্ছি আসিস একসঙ্গে টিভি দেখেতে যাবো টিটিু জোয়ান মরদ বেটা ছাওয়াল , রিক্তা যে ভাবে বলে ইঙ্গিত দেয় টিটু সাধু পুরুষের মত ভদ্রতা দেখিয়ে গেল অন্য কেউ হলে বিনা সুদে লোন দিতো ।
দিনদিন কত কথা ভেসে আসছে , প্রাইভেট পড়তে গিয়ে মাস্টারের মেয়ে মজিদ স্যারের প্রেমে ডুব সাঁতারে তলিয়ে যাবার উপক্রম
-ব্যাপারী , তোমার কাছে আবার খবর কে দিলো , এত পাখি ধরো , পাখিটা খাঁচায় নিলে না বড়টারে পোষ মানাতে পারছি না উরুত ফুরত করছে ; আমি বিয়ে করলে তার ছোট বোনরে বিয়ে করবো
মাস্টারের সংসার তোমার টাকায় চলে , যেখানে সেখানে মাথা দাও বয়স হয়েছে , দুই একজন লোকজন সম্মান করে , মাস্টারের বড় মেয়ের সঙ্গে তোমার খায় খাতির, বিয়ের প্রস্তাবটা কি আমি দিব শমসের সরকার কথায় একটু বিক্ষুব্ধ চোখে তাকালো , ফটিক ব্যাপারী
মুখে সিগারেট ধরিয়ে বলল,
শমসের সরকার , তুমি আমার বন্ধু মানুষ তোমার কাছে সত্যি বলতে আমার কোন লজ্জা নেই
মাস্টারের মেয়েটার চরিত্র ভাল আমি জানি সবাই মেয়েটাকে খারাপ ভাবে , আমার সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক কথাটা মিথ্যে কথা কেউ বিশ্বাস করবে না জানি তুমিও করবে না তার অনেক কারণ আছে , সবাই চোখ দিয়ে সবকিছু দেখতে পায় না   অনেকেই ভয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে ভয় পায় মাস্টার মানুষ তার মেয়েকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হবে কি ?'

তুমি এত করে বলছো , যদিও আমার আর মনির গোপনে প্রেম চলে গ্রামের মানুষজন বলা কওয়া করে ,
ব্যাপারী প্রেম না সবি চলে , পাপ কাজকাম বাদ দিয়ে ঘরে তুলে নাও

বন্ধু এমন অপবাদ দিও না না জেনে না শুনে , না দেখে , মানুষের কথায় কান  দিয়ে , তা বিশ্বাস করো না কখনো কখনো নিজের চোখে দেখা অনেক জিনিস ভুল দেখায় তখন নিজেকে বোকা মনে হয় তোমার অবস্থা দেখছি ঠিক তেমন তোমাকে বুঝিয়ে কি হবে,অন্ধের কাছে হাতি দেখা গল্প বলার মত ।
মাষ্টার মানুষ সারাজীবন সৎ ভাবে চলেছে , চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে    প্যারালাইসিস হয়ে ঘরে পড়ে আছে পেনশনের টাকা বউয়ের স্তন ক্যানসারে পিছনে সব গেছে ছেলে সন্তান না থাকলে আমাদের সমাজে যা হয় মেয়েদের দিকে মানুষ এখনো ভাল দৃষ্টিতে তাকায় না দেশে এনজিও , নারী আন্দোলন ,সামাজিক ভাবে অনেক প্রচার হয়েছে ; মেয়েদের অধিকার নিয়ে মেয়েরা আজ বড় বড় পোস্টে চাকরি করলেও পুরুষের চোখ সেই কামুক চাহনি আগের চেয়ে বেড়েছে , ভদ্রতার একটা লেবাস ধরে আছে মানুষ সমাজে ‘‘দেখে মনে হবে মক্কার খেজুর, ভেতরে মাকাল ফল ’’মাস্টার কিন্তু আমার শিক্ষিক, আমি আড়াল থেকে স্যারকে হেল্প করছি ; আমার কথা জানলে কখনো সে গ্রহণ করতো না মাস্টার মানুষ হচ্ছে দেবতার মত

টিটু শুনলাম , ফটিক ব্যাপারী নাকি মাস্টারের মেয়েকে বিয়ে করবে , আমিও তাই শুনলাম এতকাল পিরিত করছে  বড়টার সঙ্গে এখন বিয়ে করবে মেঝটার ফটিক ব্যাপারী চরিত্রহীন মানুষ হালে টাকাপয়সা হয়েছে , ভয়ে কেউ কিছু বলেনা
মনি-আপরে যে যাই বলুক , পরিবারের জন্য নিজের জীবনটা বাজী রেখে ছোট বোনদের মানুষ করছে   শুনলাম , রিক্তা না-কি রাজী হয়েছ বিয়েতে

রাসেল , তোমার তো দেখছি মনেমনে কলা খাওয়ার মত অবস্থা মেয়েদেরকে এত বিশ্বাস করতে নেই সংসার স্বামী ফেলে নাঙের হাত ধরে কতজন চলে যাচ্ছে মেয়ে মানুষ খাবারের কষ্ট সহ্য করে ও সংসার করে , শাড়ির কষ্ট সহ্য করে , হাজার অশান্তি সহ্য করেও মেয়েরা সংসার করে তবে , একটা জায়গায় পরাজিত হলেই বুকে পা ঠেলে তোমাকে সরিয়ে চলে যাবে এখানে অবাক হবার কিছু নাই ! কেউ-কেউ ভিন্ন হয় হাতের পাঁচ আঙুল তো আর এক হয়না আমরা যতই সাতপাঁচ ভাবি , আমাদের ভাবনা সত্য নাও হতে পারে তবে মনি, আপা ভাল একটা মেয়ে সবাই যখন একজনকে খারাপ বলে , আমি তা বলিনা মনি আপার ভেতরে কিছু ভাল জিনিস আছে , এই গ্রামে কুটিল সমাজে একটা মেয়ে মেম্বারের সঙ্গে তার যে সম্পর্ক থাকুক না কেন ?' একটা পরিবারকে সে টিকিয়ে রাখছে ,তার সাহসিকতার তারিফ করতে হয় সত্যি তবে ব্যাপারী সম্পর্কে আমরা তেমন কিছুই জানতে পারলাম না গভীর জলের মাছ
জীবনে চলার পথে কে, কখন পল্টি নিবে কেউ জানে না সময়  মানুষকে সবকিছু শিখিয়ে দেয়
রিক্তা ব্যাপারীকে বিয়ে করে ঠিকই সংসার করছে , মনি আপা গ্রাম ছেড়ে শহরে জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়তো….!
 আপন মানুষের কাছে পরাজিত হলে কেউ কেউ অন্য পথ বেছে নেয় মণিআপা বেঁচে  আছে ঠিক আমাদের বড়ই গাছটার মতো , দেখে মনে হচ্ছে মরা , উপরের ডালের দিকে তাকালে দেখা যায় কচি-কচি চিকন পাতা সদ্য গজাচ্ছে ডালে
‘নিরাল ভাই ,তুমি এত চুপচাপ কেন আজ ?' সত্যি রে টিটু  না দেখে, না শুনে,  না বুঝে, ফটিক ব্যাপারীকে কত অপবাদ দিলাম মনির জন্য খুব খুব কষ্ট হচ্ছে , চোখের কিনার দিয়ে জলপ্রবাহ , আমি ভেসে যাচ্ছি অপরাধী হিসাবে সপ্তম আসমান ছেদ করে অজানা ঠিকানায় ।  






মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একান্ত ব্যক্তিগত চিঠি || শফিক নহোর

 প্রিয় মেঘবালিকা, বৃষ্টিভেজা এই অলস দুপুরে জানালার পাশে বসে আছি। চারপাশে এক অদ্ভুত সুনসান, কেবল রিমঝিম শব্দে বৃষ্টি যেন পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে দিচ্ছে। আর আমি? আমি এই বৃষ্টিস্নাত নির্জনতায় হারিয়ে যাচ্ছি তোমার স্মৃতির ভেতর—ধীরে ধীরে, গভীরভাবে এ এক গভীর প্রেমের নিঃসঙ্গতায় তুমি জুড়ে থাকো আমায়। আজকের এই চিঠি কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়, এটি আমার হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। এমন এক হৃদয়, যা আজও শুধুমাত্র তোমার ছায়া খুঁজে বেড়ায় প্রতিটি বাতাসে, প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে। জানো, এই বৃষ্টির দিনগুলো কেমন যেন তোমার মতো হয়ে যায়—নরম, গভীর, আর অনির্বচনীয়ভাবে আবেগে পূর্ণ। তোমাকে মনে আছে সেই এক বিকেল? তোমার চোখে সেই অসমাপ্ত গল্পের ভাষা ছিল, যা আমি বুঝতে চেয়েও বোঝার সাহস পাইনি।  তোমার পরনে ছিল নীলরঙা পোষাক, ঠোঁটে ছিল মৃদু হাসি—যা দেখলেই মনে হতো, পুরো দুনিয়া যেন থেমে গেছে কেবল তোমাকে দেখার অপেক্ষায়। তুমি তখন খুব সাধারণভাবে বলছিলে, "আজ আকাশ ভীষণ মনখারাপ করেছে..." আমি চলে যাবো। আমি চুপ রইলাম। ভেতরে ভেতরে বলতে ইচ্ছে করছিল, "না, আকাশ না, মনখারাপ করেছি আমি—কারণ আমি তোমার মনের জানালায় ঢুকতে পারছি...

ছোটগল্প : মৃত বৃক্ষ।। শফিক নহোর

অনেকদিন ধরে বোয়ালমাছ খাবার বায়না ধরেছে মিনু, ও চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা । আজ চলতি মাসের একুশ তারিখ । হাতের অবস্থা বড়ই নাজুক । মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, বেতন হাতে পেলে তুমি যা-যা খেতে চাও? সব এনে দিবো ,চিন্তা করো না। ‘এখন খাবার দাও ?' আমার অফিসে যাবার সময় হলো । ভিলেন মার্কা অভদ্র একজন অফিসার আছে ,সবসময় মানুষের পিছনে একটা পিন বিধিয়ে দেবার পায়তারা চলে অবিরাম ।‘কাকে কি ভাবে পিন দিবে !'আস্তাগফিরুল্লাহ মানুষ কী তাই এত খারাপ হয় । এ অফিসে চাকরি না হলে হয়তো বুঝতাম না ।সকালে বউ রসুনের পাতা দিয়ে টমেটো ভর্তা করেছে ,আহা কি স্বাদ ।গরম ভাতের সঙ্গে হালকা একটু বলরাম কাকার হাতের তৈরিকরা ঘি, ঢেলে নিলাম ।স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে-গেল ।বউ আমার পিছনে দাঁড়িয়ে বলছে, - এই শুনছো, -হ্যাঁ বল, -আমাদের তো একদিনও চিড়িয়াখানা নিয়ে গেলে না । এ সময় চিড়িয়াখানা যেতে নেই । লোকমুখে শুনেছি , ছেলেমেয়ে দেখতে না-কি বানরের মত হয় । ও আল্লাহ্ তুমি এসব কি বলও ।হুম সত্যি বলছি গো বউ ।তা না হলে তোমাকে নিয়ে যাবো না কেন ? তুমি আমার একমাত্র আদরের লক্ষীসোনা বউ । আমার খাওয়া শেষ, বউয়ের শাড়ির আঁচল দিয়ে হাত মুছে খাঁটের উপর বসলাম । বউ আমা...

প্রিয় মায়াপাখি।। শফিক নহোর

প্রিয় মায়াপাখি কুয়াশায় ঢাকা শহরের তারকাটার অদৃশ্য দেয়াল। কেউ ঢুকতে পারছে না শহরের তারকাটা ভেদ করে। কুয়াশা কোন দেওয়াল মানেনি। সে প্রকৃতির নিয়মে চলে। প্রকৃতিকে রোধ করা যায় না। ভালোবাসা , বিশ্বাস , অনুভূতি হচ্ছে প্রকৃতির অনুচ্ছেদ তাকে কোন নিয়ম দিয়ে আলাদা করতে পারে না। ভৌগোলিকভাবে তুমি দূরে থাকলে বাতাসের সঙ্গে সূর্যের আলোর সঙ্গে তোমার শরীরের ঘ্রাণ ভেসে আসে আমার নাকের ডগায়। তুমি একদিন যোগাযোগ না করলে , দীর্ঘ একাকীত্বের ভেতর ডুবে থাকি তোমার পুরনো স্মৃতিচারণ মনে করে । এই সুখই আমার পরম প্রাপ্তি। তুমি জানতে চাও ! অথচ আমি জানাতে পারি না। এটা আমার অপারগতা ! জানি বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। নিজের কাছেই বিশ্বাস হয় না। নিজের হাত খরচ নেই , আলাদা আড্ডা নেই, বন্ধুদের সঙ্গে পকেট শূন্যতা একধরনের বিষণ্ণ স্বরে কারো কারো চা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয়। প্রতিদিন একজনের চা খাওয়া যায় না। ভেতরে ভেতরে লজ্জাবোধ কাজ করে। কারো সঙ্গে দেখা হওয়া জরুরি অথচ দেখা করতে পারছি না। এই কষ্ট ও অপরাধ ব...