সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

পোড়ামাটির ঘ্রাণ || শফিক নহোর

ক. কামারহাটের বাতাসে একটা গোপন খবর ইদানীং ঘুরে বেড়াচ্ছে। তা নিয়েই মানুষ কানাঘুষা করছে, জোয়ারের পানি বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে বাতাসের বেগও বাড়ছে। পদ্মার-ঢেউয়ের আঘাতে বাহির বাড়ির ঠাকুরঘর ভেঙ্গে যাবার উপক্রম। ভগবানের নাম জপতে জপতে এ যাত্রায় ঠাকুর রক্ষা করেছে। তা না হলে গাঙের জলে পতিমার মতো নিজেও বিসর্জন হয়ে যেতে হতো এতদিনে। মন্দির রক্ষা করবার জন্য উপজেলায় কাগজ পত্র জমা দিয়েছে পোদ্দার সাহেব। তা কোন কাগজের নিচে চাপা পরে আছে কে জানে।নিজের ব্যবসা বাণিজ্যের খোঁজখবর নিতে পারছি না ঠিকঠাক মতো। টাকা ছাড়া কি কোন কাজ হয়। আজ ক'দিন নিজের শরীর ভাল যাচ্ছে না বলে নিমাইকে পোদ্দার তার মনের দুঃখ প্রকাশ করছে। ──জানিস নিমাই 'সব মানুষই গু খায় দোষ হয় ঘাইরা মাছের।' টাকা পয়সা দিয়েও তো নদী ভাঙন রোধ করতে পারছি না গ্রামের মানুষ সহজ সরল, নেতারা যা বলে তাই বেত, বাইবেল।সত্য কথা হল সবি চোর। বিশু পোদ্দার দানবীর, গ্রামের মানুষের হৃদয়ে তাঁর নাম খোদাই করে লিখে রাখছে; পরের ভালো আজকাল মানুষ সহজে সহ্য করতে পারে না। কত বার ফিকির-ফন্দি করে রাতে পোদ্দার বাড়িতে ডাকাতি করেছে, ফটিক সরকার ও নিমাই। মানুষের জীবন সবচেয়ে আলাদা জীবন।...

শফিক নহোর ।। ছোটগল্প ।। গয়নার নৌকা

অপ্রত্যাশিত ভাবে মুন্নির সঙ্গে আমার ফিজিক্যাল রিলেশনশিপ গড়ে ওঠে। তার পর থেকে মুন্নি আমাকে খুন করার জন্য লোক ভাড়া করে। আমি ফেরারি আসামির মত পালিয়ে বেড়াতে লাগলাম। ঘরের ছোট ছিদ্র দিয়ে আলো আসলেও ভয় করতো কেউ বুঝি আমাকে দেখে ফেলল। এই ভয়কে উপেক্ষা করে একদিন বৃষ্টি - ভেজা দুপুরে মুন্নি আত্মহত্যা করেছে শুনে দৌড়ে গেলাম।   আমি তখন নানা বাড়ি থেকে লেখাপড়া করি। মুন্নি আমাকে ভয় দেখাত , আমাকে বিয়ে না করলে বড় মামার কাছে বিচার দেবো ?’ আমার সামনে এসে এ কথা কখনো বলেনি। তবে সালমা আমাকে বলত , কিরে মুন্নিকে নাকি তুই বিয়ে করবি , আমার কাছে বল না সত্যি কথা। সালমার আবদার ছিল ভিন্ন রকম।আমি সালমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। এই তাকিয়ে থাকাটা অন্যায় কিছু না সুন্দর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় অনন্ত একশ বছর। ছুটির দিনে চরদুলাই বটগাছের নিচে বসে আছি। আমি গয়নার নৌকায় পাড় হবো। বাড়ি থেকে খবর এসেছে মায়ের শরীর ভালো না। বড় মামা আমাকে প্রায়ই বলতো , - সেলিম তোকে কিন্তু ডাক্তা...