সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

শফিক নহোরের গল্প || আড়ালের গল্প ||

  আড়ালের গল্প  ||শফিক নহোর || শীতের সকালে রোদ পোহানোর উছিলায় আমাদের বাহির-বাড়ির নারকেল-গাছ তলায় শীতলপাটি   বিছিয়ে বসে যেতাম , স্কুলের পাঠ্যবই নিয়ে উচ্চ স্বরে তা পড়তাম ।বাবা দেখে যেন কিছু—না বলে তার জন্য হাতের কাছে রেখে দিতাম লম্বা পাটের খড়ি । পাশের জমিতে গম বপন করেছে ; কাকতাড়ুয়া বানিয়ে জমিদে পুঁতে রাখা হয়েছে , তবুও জমিতে কাক এসে খেয়ে যাচ্ছে সদ্য বপন করা গমের-বীজ । আমি মাঝে-মধ্যে তাড়িয়ে দেই ।শীতের সকালে রান্না শেষে মা , খেজুর-গাছের পাতা দিয়ে অন্য রকম এক শীতলপাটি তৈরি করত ,আশ পাশের বাড়ি থেকে চাচি খালারা আসত । মা' পান-সুপারি খেয়ে, ঠোঁট গারুয়া বাচা-মাছের মত লাল-টকটকে করে রাখতো সবসময় ।   আমাদের সবার জন্য আলাদা আলাদা শীতলপাটি তৈরি করে রাখতো ; মা ছিল নিপুণ কারুকাজে পারদর্শী একজন মানুষ । সবাই মায়ের কাছে আসত   হাতের কাজ শিখতে ।আনন্দে সবাই শিখতো সকাল কেটে যেত পরম আনন্দে । আমাদের পুকুরপাড় জুড়ে খেজুর-গাছ , লোকজন আমগাছের পরগাছা উদ্ভিদ ঢ্যারার আঠা দিয়ে পাখি শিকার করত । আমি ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে সেই   বুলবুলি/কুলি-পাখি দিয়ে চড়ুইভাতি , করতাম সবাই মিলে।...

অগ্নিকুসুম || শফিক নহোর

অগ্নিকুসুম শফিক নহোর আলতাফ মাস্টারের পাঁচ মেয়ে পাঁচটা নাঙ ধরছে । আলতাফ মাস্টার বাজারে না গেলেও ঘরের ভেতরে বাজার থেকে , তাজামাছ , শুঁটকি মাছ , পুঁইশাকের ডগা , চিংড়িমাছ , কাঁঠালের বিচি ভাজি সব আসে । নাঙ থাকলে মায়া মানুষের কোন কিছুর অভাব হয়না । আলতাফ মাস্টার মেয়ে দিয়ে আড়ত বসাইছে । বড় মেয়ে সারাদিন দেখি বাজারে দোকান নিয়ে অন্ধকার ভূতের ঘর তৈরি করছে , গ্রামের মাগি মানুষের গা লাগছে শহরের ভূতের হাওয়া , কালো ভূত দরজা দিয়ে ঢুকলে শাদা ফর্সা মানুষ বের হয় । মেয়ে মানুষ এখন মরদ বেটাগোরে মত বাজারে গিয়ে বিউটি পার্লারের নাম দিয়া বাল ফেলায় । খানকী মাগিরে কাজকাম যা তাই করে , - নিরাল ভাই , মনি - আপা তোমার সঙ্গে প্রেমের অফার না করছে , দেখে এত ক্ষেপছো । - ধুর শালার পুত , তোর মনিআপার চেয়ে ভাল মেয়ে একখান নোট দেখালে কাঠের পুতুলের মত হা করে আমার পিছনে ছুটে আসবে । এ সমাজে কি সত্য কথা বললে কেউ বিশ্বাস করে , করেনা রে— টিটু , আমার কথা কেউ বিশ্বাস করে না । ...