সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অলিখিত চিঠি ।। শফিক নহোর

 




প্রিয় মায়াপাখি,


তোমার দেওয়া উপহার গুলোর ভেতর তেমন কিছু আজ নেই । ফুলের পাঁপড়ি বইয়ের ভাজে ছিল অনেক বছর। কয়েক বছর বাসা পরিবর্তনের ফলে তা আছে কি না দেখা হয়নি। তোমার দেওয়া ডাইরিতে এখনো কিছুই লেখা হয়নি। কি লিখব! বুঝতে পারছি না । ভাবছি সবকথা তোমার সঙ্গে দেখা হলে বলবো। তবে  প্রতিদিনই এক বার ছুঁয়ে দেখি, তোমার দেওয়া ডাইরি।

 

তোমার সঙ্গে প্রথম যে রাস্তায় দেখা হয়েছিল, সেদিন আমরা যে রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলাম, তুমি নীল রঙের একটা ড্রেস পরে এসেছিলে, সব মনে আছে।ভাবতে অদ্ভুত লাগে, তোমার সঙ্গে আমার যা যা স্মৃতি, তার সব কিছুই আমার স্পষ্ট মনে আছে, যদিও 

আমার স্মৃতিশক্তি দুর্বল; যেন গতকালই ঘটল এইসব! অথচ তুমি অবহেলা করেই আমার সঙ্গে খেতে বসলে না । চাপা অভিমানে সামনে পা বাড়িয়ে দিলে সেদিন।

 

তুমি মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলে । তুমি নরম কন্ঠে একবার বলে উঠলে বিখ্যাত একটি পার্কে যেতে । আসলে আমার মনে সায় দিয়েছিল না। তোমার সেই আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করে ।

তোমাকে কিছুই দেওয়া হয়নি। ভেতরে ভেতরে একধরনের অনুশোচনায়  দগ্ধ হয়েছি আমি ।

 

তোমার সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত সত্যিই খুব চমৎকার ছিল। আমার জীবনে সেগুলি ছিল আশীর্বাদের মত।প্রেমিকা হবার আগে তুমি ছিলে দারুণ একজন বন্ধু, অতি সহজসরল আন্তরিক। সবচাইতে বড়ো কথা, সবকিছুর উপরে তুমি ছিলে একজন ভালো মানুষ! আমি আজ আমাদের সেই সুন্দর মুহূর্তগুলি নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি অবিরত।

 

 মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা আমরা চাইলে টিকিয়ে রাখতে পারতাম। একটু খুঁজলে হয়তো পেয়ে যেতাম এমন কোনও রাস্তা, যে রাস্তায় হাঁটলে সম্পর্কটা আজও বেঁচে থাকত। যখনই ভাবি, যে মানুষটাকে আমি সবচাইতে ভালো করে চিনি, সে মানুষটাকেই নিজের কাছে জোর করে অচেনা করে রাখতে হচ্ছে, তখনই সত্যিই খুব খারাপ লাগে।এই ব্যর্থতা এই কষ্ট অন্য মানুষকে বোঝানো সম্ভব না। সত্যিই অনুভবেরর বিষয়… তুমি অনুভূতি রোদ্রে মুছে যাওয়া ভোরের শিশির!

 

বৃষ্টি নামলে একা একা বৃষ্টি দেখি। আমি জানি, তুমিও ঠিক এই মুহূর্তে বৃষ্টি দেখছ।দুজনই খুব করে চাইছি, বৃষ্টি দেখতে দেখতে গল্প করি। অথচ তুমি সংসার নিয়ে ডুবে আছো বেদনাকে উপেক্ষা করে। ভুলে বসে আছো আমাকে ।

এই ছোট্ট একটা জীবন, তবুও দেখ এখানেও কত হিসেব করে বাঁচতে হয়। তাই না মায়াপখি?

 

 আমি জানি, ভালোবাসা শেষ হয়ে না গেলেও সম্পর্ক একদিন শেষ হয়ে যায়। একসঙ্গে হাঁটার কাজটা শেষ অবধি চালিয়ে নেওয়া যায় না। ইচ্ছেই সব কিছু নয়, এখানে আরও অনেক ব্যাপার থাকে। আমি বুঝি এইসব। কিন্তু মনটাকে কে বোঝাবে!? মন তো কেবলই আশা করে আর করতেই থাকে। মনে ভাবে, আমাদের সব কিছু বুঝি আবার আগের মতো ঠিক হয়ে যাবে! এভাবেই বোধ হয় জীবন কাটে।

 

 তবু আমার ভাবতে ভালো লাগে যে আমি তোমাকে চিনি, আমাদের দেখা হয়েছিল। সুন্দর এক বিকালে। তোমাকে ভালোবাসতে ও ভালো ভাবতে আমার মধ্যে একধরনের সুখ অনুভূত কাজ করে। আজ যে জায়গায় আমি দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে আসতেই পারতাম না, যদি তুমি আমার বন্ধু হয়ে ছাঁয়ার মত পাশে না থাকতে। আমার খারাপ সময় তুমিই পাশে ছিলে আছো এবং থাকেবে আমার বিশ্বাস। তোমার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তোমাকে আমি মিস করি, প্রতিদিনই তোমাকে ভুলে গেলে ভুলে যাবো নিজেকে।

 ভালো থেকো। তোমার অনেক ছবি আমার কাছে আছে। রাতে ঘুম ভেঙে গেলে মোবাইল অন করে বার বার আমি সেই পুরনো ছবি প্রতিদিন কত বার ছুঁয়ে দেখি ,আমি নিজেও জানি না! তোমার ছবির সঙ্গে আমার কথা হয় রোজ! আমি ছুঁয়ে দেখি তোমার শরীর, ঠোঁট চোখ….



ইতি


শালিক পাখি 

আভা, সৌদিআরব-২০০৬

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একান্ত ব্যক্তিগত চিঠি || শফিক নহোর

 প্রিয় মেঘবালিকা, বৃষ্টিভেজা এই অলস দুপুরে জানালার পাশে বসে আছি। চারপাশে এক অদ্ভুত সুনসান, কেবল রিমঝিম শব্দে বৃষ্টি যেন পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে দিচ্ছে। আর আমি? আমি এই বৃষ্টিস্নাত নির্জনতায় হারিয়ে যাচ্ছি তোমার স্মৃতির ভেতর—ধীরে ধীরে, গভীরভাবে এ এক গভীর প্রেমের নিঃসঙ্গতায় তুমি জুড়ে থাকো আমায়। আজকের এই চিঠি কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়, এটি আমার হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। এমন এক হৃদয়, যা আজও শুধুমাত্র তোমার ছায়া খুঁজে বেড়ায় প্রতিটি বাতাসে, প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে। জানো, এই বৃষ্টির দিনগুলো কেমন যেন তোমার মতো হয়ে যায়—নরম, গভীর, আর অনির্বচনীয়ভাবে আবেগে পূর্ণ। তোমাকে মনে আছে সেই এক বিকেল? তোমার চোখে সেই অসমাপ্ত গল্পের ভাষা ছিল, যা আমি বুঝতে চেয়েও বোঝার সাহস পাইনি।  তোমার পরনে ছিল নীলরঙা পোষাক, ঠোঁটে ছিল মৃদু হাসি—যা দেখলেই মনে হতো, পুরো দুনিয়া যেন থেমে গেছে কেবল তোমাকে দেখার অপেক্ষায়। তুমি তখন খুব সাধারণভাবে বলছিলে, "আজ আকাশ ভীষণ মনখারাপ করেছে..." আমি চলে যাবো। আমি চুপ রইলাম। ভেতরে ভেতরে বলতে ইচ্ছে করছিল, "না, আকাশ না, মনখারাপ করেছি আমি—কারণ আমি তোমার মনের জানালায় ঢুকতে পারছি...

ছোটগল্প : মৃত বৃক্ষ।। শফিক নহোর

অনেকদিন ধরে বোয়ালমাছ খাবার বায়না ধরেছে মিনু, ও চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা । আজ চলতি মাসের একুশ তারিখ । হাতের অবস্থা বড়ই নাজুক । মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, বেতন হাতে পেলে তুমি যা-যা খেতে চাও? সব এনে দিবো ,চিন্তা করো না। ‘এখন খাবার দাও ?' আমার অফিসে যাবার সময় হলো । ভিলেন মার্কা অভদ্র একজন অফিসার আছে ,সবসময় মানুষের পিছনে একটা পিন বিধিয়ে দেবার পায়তারা চলে অবিরাম ।‘কাকে কি ভাবে পিন দিবে !'আস্তাগফিরুল্লাহ মানুষ কী তাই এত খারাপ হয় । এ অফিসে চাকরি না হলে হয়তো বুঝতাম না ।সকালে বউ রসুনের পাতা দিয়ে টমেটো ভর্তা করেছে ,আহা কি স্বাদ ।গরম ভাতের সঙ্গে হালকা একটু বলরাম কাকার হাতের তৈরিকরা ঘি, ঢেলে নিলাম ।স্বাদ দ্বিগুণ বেড়ে-গেল ।বউ আমার পিছনে দাঁড়িয়ে বলছে, - এই শুনছো, -হ্যাঁ বল, -আমাদের তো একদিনও চিড়িয়াখানা নিয়ে গেলে না । এ সময় চিড়িয়াখানা যেতে নেই । লোকমুখে শুনেছি , ছেলেমেয়ে দেখতে না-কি বানরের মত হয় । ও আল্লাহ্ তুমি এসব কি বলও ।হুম সত্যি বলছি গো বউ ।তা না হলে তোমাকে নিয়ে যাবো না কেন ? তুমি আমার একমাত্র আদরের লক্ষীসোনা বউ । আমার খাওয়া শেষ, বউয়ের শাড়ির আঁচল দিয়ে হাত মুছে খাঁটের উপর বসলাম । বউ আমা...

প্রিয় মায়াপাখি।। শফিক নহোর

প্রিয় মায়াপাখি কুয়াশায় ঢাকা শহরের তারকাটার অদৃশ্য দেয়াল। কেউ ঢুকতে পারছে না শহরের তারকাটা ভেদ করে। কুয়াশা কোন দেওয়াল মানেনি। সে প্রকৃতির নিয়মে চলে। প্রকৃতিকে রোধ করা যায় না। ভালোবাসা , বিশ্বাস , অনুভূতি হচ্ছে প্রকৃতির অনুচ্ছেদ তাকে কোন নিয়ম দিয়ে আলাদা করতে পারে না। ভৌগোলিকভাবে তুমি দূরে থাকলে বাতাসের সঙ্গে সূর্যের আলোর সঙ্গে তোমার শরীরের ঘ্রাণ ভেসে আসে আমার নাকের ডগায়। তুমি একদিন যোগাযোগ না করলে , দীর্ঘ একাকীত্বের ভেতর ডুবে থাকি তোমার পুরনো স্মৃতিচারণ মনে করে । এই সুখই আমার পরম প্রাপ্তি। তুমি জানতে চাও ! অথচ আমি জানাতে পারি না। এটা আমার অপারগতা ! জানি বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। নিজের কাছেই বিশ্বাস হয় না। নিজের হাত খরচ নেই , আলাদা আড্ডা নেই, বন্ধুদের সঙ্গে পকেট শূন্যতা একধরনের বিষণ্ণ স্বরে কারো কারো চা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয়। প্রতিদিন একজনের চা খাওয়া যায় না। ভেতরে ভেতরে লজ্জাবোধ কাজ করে। কারো সঙ্গে দেখা হওয়া জরুরি অথচ দেখা করতে পারছি না। এই কষ্ট ও অপরাধ ব...